মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন। উচ্চ শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডাতে পিএইচডি করছিলেন তিনি। মা-বাবার বুকভরা আশা ছিল ছেলে উচ্চ শিক্ষার সার্টিফিকেট নিয়ে ফিরবেন দেশের মাটিতে। লিমন মা-বাবার কাছে ফিরেছেন ঠিকই, তবে নিথর দেহে, কফিনবন্দী হয়ে মৃত্যুর সার্টিফিকেট নিয়ে।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামের জহুরুল হক ও লুৎফুন নেছা লতার দুই ছেলের মধ্যে লিমন বড়। উচ্চশিক্ষার জন্য ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। স্থানীয় শহরের একটি ভাড়াটে বাসা থেকে গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন তিনি। এর আট দিন পর ২৬ এপ্রিল ওই শহরের একটি ব্রিজের নিচ থেকে লিমনের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
লিমনের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জে হলেও জন্ম থেকে শুরু করে লেখাপড়ার জীবন কেটেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে মা-বাবার সাথে।
সোমবার (৪ মে) বিকেল সোয়া ৩টায় গ্রামের বাড়ি মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে লিমনের লাশ পৌঁছে। শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়ির আঙ্গিনায় হাজারো মানুষের ভিড় জমে। সৃষ্টি হয় শোকের আবহ।
নিহতের চাচা সুজন মিয়া বলেন, ‘ভাতিজা লিমন অত্যন্ত মেধাবী ছিল। স্বপ্ন ছিল সে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমাদের মুখ উজ্জল করবে।’
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা তৈয়ব আলী বলেন, ‘জহুরুল হকের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে জামিল আহমেদ লিমন ছিল ধর্মভিরু। এলাকার মানুষের প্রতি ছিল অগাধ ভালোবাসা। এমন নৃশংস মৃত্যু আমরা এলাকাবাসী কেউ মেনে নিতে পারছি না। তার এ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।’
মা লুৎফুন্নেছা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘যে বিমানবন্দর থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম সে বিমানবন্দর থেকেই কফিনবন্দী আদরের সন্তান লিমনের লাশ গ্রহণ করতে হলো আমাদের।’
বাবা জহুরুল হক বলেন, ‘আমার দুই ছেলের মধ্যে লিমন বড়। ছোটবেলা থেকেই অনেক মেধাবী ছিল সে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিলাম উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে। সে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো আমার। বাবা হয়ে বহন করতে হলো ছেলের লাশ। এর থেকে বড় দুঃখ আর কী আছে?’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে লিমনের নৃশংস হত্যাকারীকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন পরিবার ও নিহতের স্বজনরা।
লিমনের জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ইউএনও সুমন চৌধুরী, এনসিপি কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফর রহমানসহ হাজারখানেক মুসল্লি।
মাগরিবের নামাজের পর লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে শায়িত করা হয় তাকে।



