বিদ্যুৎ আছে, জ্বলে না বাতি

শ্রীবরদীতে কাজে আসছে না ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এলইডি স্মার্ট লাইট

বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু বাতি জ্বলে না। রাত হলেই চারদিকে অন্ধকার নেমে আসে। পৌরসভার পুরাতন লাইনগুলো মেরামত না করায় সামান্য বৃষ্টি ও বাতাস উঠলেই বিভিন্ন এলাকা, রাস্তা ও অলিগলিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

এ জে এম আহছানুজ্জামান ফিরোজ, শ্রীবরদী (শেরপুর)

Location :

Sreebardi
শ্রীবরদীতে কাজে আসছে না ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এলইডি স্মার্ট লাইট
শ্রীবরদীতে কাজে আসছে না ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এলইডি স্মার্ট লাইট |নয়া দিগন্ত

বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু বাতি জ্বলে না। রাত হলেই চারদিকে অন্ধকার নেমে আসে। পৌরসভার পুরাতন লাইনগুলো মেরামত না করায় সামান্য বৃষ্টি ও বাতাস উঠলেই বিভিন্ন এলাকা, রাস্তা ও অলিগলিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

পুরাতন লাইনগুলোর পাশাপাশি পৌরসভা আলোকিত করার লক্ষে ৩ কোটি ৬ লাখ ৬১ হাজার ১৫৫ টাকা ব্যায়ে এলইডি স্মার্ট লাইট স্থাপন করা হয়। যার দৈর্ঘ্য ৪ হাজার মিটার। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও স্মার্ট লাইটগুলো জ্বালানো হচ্ছে না। অন্ধকারে থাকায় রাতের আধাঁরে বিভিন্ন এলাকায় মাদক বেচাঁকেনা ও চুরির তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিষয়টি সচেতন নাগরিক ও পৌরসভার বাসিন্দারা পৌর কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছে। কিন্তু কোন সমাধান হয়নি। তাদের এ উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল ও পৌরবাসী।

জানা যায়, ২০০৪ সালে শেরপুরের শ্রীবরদী পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শ্রীবরদী পৌরসভাটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। অপরকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, নেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে থাকে। নেই বর্জ্য ফেলার জায়গা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণে বাজারের বিভিন্ন জায়গা নোংরা হয়ে আছে। নেই পাবলিক টয়লেট। পৌর শহরের কলেজ মহল্লা, উত্তর শ্রীবরদী, খামারিয়াপাড়া, মুন্সিপাড়া, সাতানী শ্রীবরদী, কলাকান্দা, ফতেহপুর, তারাকান্দি, চড়িয়াপাড়া, পোড়াগড়, আটাকান্দ, নয়াপাড়া, জালকাটা, শেখদী, তাতিহাটি সহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা-ঘাটে লাইটিং ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। রাত হলেই চারদিকে অন্ধকার নেমে এসে। শুরু হয় মাদকসেবিদের আড্ডা। এ নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে পৌরসভা বাতিলের দাবি তুলেন। আবার কেউ প্রতিবাদ হিসেবে মোমবাতি নিয়ে ভিডিও বানিয়ে প্রকাশ করেছেন। নিম্ন মানের বাতি হওয়ায় সামান্য ঝড় অথবা বৃষ্টি হলেই সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

ভুক্তভোগীরা বাতি মেরামত করার জন্য একাধিকবার জানালেও দায়িত্বপ্রাপ্তরা উদাসীন। তাদের অজুহাত বাতি নেই, মালামাল নেই, তাই লাইন ঠিক করতে দেরি হবে।

অন্ধকার থেকে রেহাই পেতে লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকোভারি প্রজেক্টের উদ্যোগে ৩ কোটি ৬ লাখ ৬১ হাজার ১৫৫ টাকা ব্যায়ে এলইডি স্মার্ট লাইট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে শ্রীবরদী পৌরসভা। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীবরদী চৌরাস্তা থেকে ভায়াডাঙ্গা রোডে ১৫০০ মিটার, কৃষি ব্যাংক মোড় হতে দহেরপাড় রোডে ১০০০ মিটার, লাখো হোটেল থেকে নিলাক্ষিয়া রোড ভায়া শ্রীবরদী কাঁচা বাজার রোডে ১৫০০ মিটার এলাকায় এলইডি স্মার্ট লাইট নির্মাণ হওযার কথা। কিন্তু পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত এলাকা পরিবর্তন করে শ্রীবরদী চৌরাস্তা থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বর, থানা রোড ও শ্রীবরদী-বকশীগঞ্জ রোডের উত্তর শ্রীবরদী এলাকা পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

সম্প্রতি ওই প্রকল্পের মাধ্যমে লাইট স্থাপনের কাজ শেষ হয়। ৪-৫ দিন জ্বালানোর পর বাতিগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন, ব্যয়বহুল হওয়ায় বাতিগুলো জ্বালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাতিগুলো জ্বালানো থাকলে একরাতে প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে।

পৌরসভার বাসিন্দা আরাফাত হোসাইন বলেন, ‘বিদ্যুৎ থাকতেও পৌরসভার রাস্তাঘাট অন্ধকার থাকে। এতে করে চুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকদিন আগেও আমার বাড়ি কাছ থেকে ট্রাকের পাতি চুরি করে নিয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতানী শ্রীবরদীর শান্তি বাগের এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, গত রমজান মাসে শান্তিবাগ তিন রাস্তা মোড়ে একটি লাইট লাগানো হয়েছিল। কিন্তু লাগানোর ৩ দিন পর থেকে আর বাতি জ্বলে না। এ নিয়ে একাধিক বার বলার পরেও অদ্যবতি নতুন করে বাতি লাগানো হয় নাই। এই রাস্তা দিয়ে কয়েক মহল্লার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন।

পৌর বাসিন্দা খোরশেদ বলেন, রাত হলেই চারদিকে অন্ধকার হয়ে যায়। ২২ বছর পরও যাদি একটি পৌরসভার এ অবস্থা হয় তাহলে মানুষ কি সেবা পাবে?

শ্রীবরদী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, এলইডি স্মার্ট লাইট গুলো খুবই ব্যয়বহুল। দৈনিক প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা ব্যায় হয়। পৌরসভার আর্থিক সমস্যা থাকায় বাতিগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, পুরনো বাতি ও লাইন মেরামতের জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কিছু সমস্যা রয়েছে। দ্রুতই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।