জামালপুরে পৃথক মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সকালে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ হনুফা বেগমকে মারধর করে হত্যা করেন স্বামী হাফিজুল। ওই বছর ১৯ সেপ্টেম্বর বকশীগঞ্জ থানায় নিহত গৃহবধূর মা আমেনা বেগম পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

খাদেমুল বাবুল, জামালপুর

Location :

Jamalpur
জামালপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাফিজুলকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে
জামালপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাফিজুলকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

জামালপুরে পৃথক মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় দেন।

এর মধ্যে গৃহবধূ হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এক কিশোরীকে অপহরণের দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

স্ত্রী হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন হাফিজুল (৩৫)। তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর গ্রামের মরহুম প্রধানের ছেলে। এছাড়া অপহরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্তরা হলেন শামীম (৩৩), সাদেক (৩৭) ও জালাল মিয়া (৪০)। তারা জামালপুর সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ও বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সকালে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ হনুফা বেগমকে মারধর করে হত্যা করেন স্বামী হাফিজুল।

খবর পেয়ে গৃহবধূর পরিবার ভোলা থেকে এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ওই বছর ১৯ সেপ্টেম্বর বকশীগঞ্জ থানায় নিহত গৃহবধূর মা আমেনা বেগম পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত গৃহবধূর স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে খালাস প্রদান করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী আরো বলেন, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সকালে তৎকালীন এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরী বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় হরিপুর এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে আসামিরা। এই ঘটনায় কিশোরীর বাবা জামালপুর থানায় অভিযোগ করলে গাজীপুর জেলা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই মামলায় সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত তিনজনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয় এবং আসামি জালালকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদানের আদেশ দেন।