জামিন পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া

২০২০ সালে ডিবি পুলিশের এক অভিযানে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন রমজান আলীসহ পাঁচজন। যে মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নাম সোনামিয়া।

গোলাম আজম খান, কক্সবাজার অফিস

Location :

Cox's Bazar
জামিনে মুক্তি পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া
জামিনে মুক্তি পেলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রমজানের বদলে কারাভোগ করা সোনামিয়া |ভিডিও থেকে নেয়া

অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন কক্সবাজারের আলোচিত রমজান আলীর বদলে মৃত্যুদণ্ডের দণ্ড মাথায় নিয়ে সাজা ভোগ করা মুহাম্মদ ইয়াসিন প্রকাশ সোনামিয়া।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এর আগে, ২৩ জুন র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর থেকে কক্সবাজার জেলা করাগারে মৃত্যুদণ্ডর দণ্ড মাথায় নিয়ে তিনি বন্দী ছিলেন।

সোনামিয়ার আইনজীবী আবদুল মান্নান জানান, আদালত সোনামিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হন যে, সোনামিয়ার জন্ম নিবন্ধন কার্ড নিয়ে ধরা পড়া কথিত সোনামিয়া এই সোনামিয়া নন, তারা আলাদা আলাদা ব্যক্তি। এক্ষেত্রে সোনামিয়ার মুক্তি চেয়ে একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম বিভিন্ন রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চার শর্তে সোনামিয়ার মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।

চারটি শর্ত হচ্ছে— এনআইডি কার্ড থানায় জমা রাখা, ঠিকানা পরিবর্তন না করা, আদালতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে রাখা।

এর আগে, ২০২০ সালে ডিবি পুলিশের এক অভিযানে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন রমজান আলীসহ পাঁচজন। যে মামলার এজাহারের ২ নম্বর আসামির নাম সোনামিয়া। অভিযানের সময় ওই ব্যক্তির কাছে পাওয়া একটি জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপির সূত্র ধরে সোনামিয়ার নামটি ব্যবহার করা হয় এজাহারে।

আদালত থেকে পাওয়া নথিপত্রের তথ্য মতে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই সময়ের ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২ নম্বর আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি।

নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনামিয়া’ (এজাহারভুক্ত আসামি) কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত ওই মামলায় সোনামিয়াসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর ২৩ জুন র‌্যাব-১৫-এর একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ওয়ারেন্টমূলে ‘সোনামিয়াকে’ (বর্তমান) গ্রেফতার করেন। পরে তাকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর নতুন করে সামনে আসে প্রশ্ন। কারাগারে যাওয়ার দুই-তিন দিন পর ‘সোনামিয়া’ কারাগারের জেল সুপার বরাবর আবেদন করেন, তিনি এই মামলার আসামি নন। পরে জেল সুপার বিষয়টি জেলা জজ, কক্সবাজারের কাছে পাঠিয়ে দেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন। গত ২ জুলাই কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

আর যেখানে উঠে এসেছে ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ও জামিনপ্রাপ্ত সোনামিয়া, মামলার রায় ঘোষণার পর র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার সোনামিয়া একই ব্যক্তি নন। ঘটনার প্রথমে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান।