রাজধানীর মতিঝিলের কবি জসিম উদ্দিন রোডের একটি ফ্ল্যাটে খুন হওয়া ওবায়দুল্লাহ (৩০) নামের এক যুবকের লাশের কোমর থেকে নিচের অংশ সাভার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) সকালে সাভারের আমিনবাজার এলাকার সালেহপুর ব্রিজের নিচ থেকে ওই লাশের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের ও সাভার মডেল থানা এবং আমিনবাজার বাজার ফাঁড়ি ইনচার্জ (এসআই) জাকির হোসেন আল-আহসান।
এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে শাহীন আলম (২১) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া বিকেল সাড়ে ৪টায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ রেখে আগামীকাল সোমবার (২ মার্চ) থেকে পুনরায় ওই লাশের সর্বশেষ কোমরের উপর থেকে গলা পর্যন্ত অংশ উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দলের ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহকে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তার রুমমেট শাহীন আলম শ্বাসরোধে নির্মমভাবে হত্যার পর ওবায়দুল্লাহর লাশ সাত টুকরো করেন। পরে লাশের টুকরোর হাত-পা-মাথার অংশগুলো রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয় হত্যাকারী।
গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পল্টন থানাধীন বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশ থেকে দু’টি কাটা হাত ও স্কাউট ভবনের পাশ থেকে একটি কাটা পাসহ অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। গলা থেকে নিচের অংশ উদ্ধারের জন্য সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্যের ডুবুরিদলের একটি গ্রুপ ইনচার্জ আবুল খায়েরের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে লাশের কোমর থেকে নিচের অংশ আমিনবাজারের সালেহপুর ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গলার নিচ থেকে কোমরের উপরের অংশ এখনো উদ্ধার করা
সম্ভব হয়নি।
সূত্র জানায়, আটক শাহীন আলম মতিঝিলের হীরাঝিল হোটেলের কর্মচারী। শাহীন ও নিহত ওবায়দুল্লাহ মতিঝিলের কবি জসীম উদ্দিন রোডের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থেকে বসবাস করতেন। নিহত ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিও প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দলের ইনচার্জ আবুল খায়ের বলেন, বালতির মধ্যে গামছা দিয়ে পেছিয়ে একটি সিএনজিতে করে লাশের অংশ সাভারে নিয়ে আসা হয়। সিএনজি ড্রাইভারের ভাষ্যমতে চারজন ডুবুরি অভিযান পরিচালনা করে লাশের খণ্ডাংশ উদ্ধার করে।



