সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২০ জানুয়ারি। এর ঠিক তিন সপ্তাহ পর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই দুই নির্বাচনের সময়কাল কাছাকাছি হওয়ায় শাকসু নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন একাধিক প্রার্থী।
প্রার্থীদের মতে, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় এর প্রভাব ক্যাম্পাসেও পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রচারণা, পোস্টার লাগানো এবং ভোটের দিন সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।
কমপক্ষে ১০ জন প্রার্থী একযোগে জানিয়েছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও মনিটরিংয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকবেন। এই অবস্থায় শাকসু নির্বাচনের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা যাবে, সেটিই আমাদের প্রধান উদ্বেগ। আমরা চাই ভোট প্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়। কারণ শিক্ষার্থীরা যখন তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে আসবে, তখন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না থাকলে ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় জটিলতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।’
স্বতন্ত্র প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী হাফিজুর ইসলাম হাফিজ এ বিষয়ে নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ২১ দিন আগে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উত্তাপ, মতাদর্শিক মেরুকরণ ও বহিরাগত প্রভাবের আশঙ্কা থাকায় এর প্রভাব ক্যাম্পাসেও পড়তে পারে।
এছাড়া নারীদের নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়ে আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদপ্রার্থী জেরিন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময়ে শাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে, এই সময়ে সারাদেশেই অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজমান, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সংবেদনশীল। এই সময়ে শাকসু ভোট গ্রহণে নারী প্রার্থী ও ভোটার উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত ও ভোট প্রদানে কোন ধরনের হয়রানি ভীতি প্রদর্শন বা বিশৃঙ্খলা যেন নারীদের ভোট প্রয়োগে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করা প্রসাশন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব বলে মনে করি।
জানতে চাইলে শাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, কারণ শাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে ক্যাম্পাসের ভেতরে, অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে। সে কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে বলে আমরা মনে করছি। তবুও কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করব। ভোটের দিন ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে ভোটের দিন ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে নিয়োজিত সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শাকসু নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।’



