মিঠাপুকুরে বিষাক্ত গুড় তৈরির মহোৎসব, জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

উপজেলার গেনার পাড়া ও ফুলচৌকি, গেনারপাড়া খামারপাড়া, জগদীশপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে অর্ধশতাধিক কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে চিনির সাথে ক্ষতিকর রং ও মরণব্যাধি ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিকদ্রব্য মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে এই ভেজাল গুড়।

মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা

Location :

Mithapukur
চিনি, রং ও রাসায়নিকদ্রব্য মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল গুড়
চিনি, রং ও রাসায়নিকদ্রব্য মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল গুড় |নয়া দিগন্ত

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শুকুরের হাট ও আশপাশের খামারপাড়া, গেনারপাড়া, ফুলচৌকিসহ বিভিন্ন গ্রামে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ ভেজাল ও বিষাক্ত গুড় উৎপাদনের মহোৎসব চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার গেনার পাড়া ও ফুলচৌকি, গেনারপাড়া খামার পাড়া, জগদীশপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে অর্ধশতাধিক কারখানায় দীর্ঘ দিন ধরে চিনির সাথে ক্ষতিকর রং ও মরণব্যাধি ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিকদ্রব্য মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে এই ভেজাল গুড়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের মাসিক ‘মাসোয়ারা’-এর বিনিময়ে ম্যানেজ করে দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে মরণঘাতী ব্যবসা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভেজাল গুড় তৈরির কারখানাগুলোতে আখের কোনো নাম নিশানা নেই। এমন কি অত্র এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো আখের চাষাবাদ নেই বললেই চলে। সেখানে চিনির সাথে মেশানো হচ্ছে পচা মিষ্টির শিরা, কাপড় তৈরির রং এবং লিভার-কিডনি ধ্বংসকারী বিভিন্ন কেমিক্যাল জাতীয় দ্রব্য, যা জনস্বাস্থের জন্য হুমকি স্বরুপ। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত এই গুড় আখের বা খেজুরের গুড় নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। এমনকি অভিযানের সময় বাড়ির পাশের টয়লেট ও ড্রাম থেকে বিষাক্ত কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়েছে।

বিগত ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত একাধিকবার প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করেছে । ২০২১ সালে তৎকালীন ইউএনও ফাতেমা -তুজ- জোহরা অভিযান পরিচালনা করে কারখানা সিলগালা করেন। ২০২৫ সালে তৎকালীন ইউএনও বিকাশ চন্দ্র বর্মন ও জিল্লুর রহমান পৃথক পুথক অভিযানে কয়েক লাখ টাকা জরিমানা এবং প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল বিনষ্ট করেন। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই আবারো চালু করা হয় কারখানাগুলো।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এই পুরো ভেজাল গুড় বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন মিল্লাত ট্রেডার্সের মালিক মুকুল মিয়া। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ক্ষুদ্র মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে পৌঁছে দেন। এই ‘মাসোয়ারা’ বাণিজ্যের কারণেই কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের দাবি। বিএসটিআইয়ের কোনো বৈধ সনদ ছাড়াই কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভুয়া চালান দেখিয়ে এই গুড় ট্রাকে করে পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: পারভেজ বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাউকে খেলতে দেয়া হবে না।’

স্থানীয়দের দাবি, শুধু নামমাত্র জরিমানা নয় বরং এই বিষাক্ত গুড় তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনলেই রেহাই পাবে মরণফাঁদ থেকে।