পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, সালিশের আগেই পিটিয়ে হত্যা

সালিশে বসার আগেই অভিযুক্ত লিয়াকত ও তার ছেলে আল আমিন সেখানে এসে অতর্কিতভাবে আলিমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার বুকে ও পিঠে এলোপাতাড়ি লাথি-ঘুষি মারা হয়।

মনিরুজ্জামান সুমন, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)

Location :

Chuadanga
আটক ব্যক্তিরা
আটক ব্যক্তিরা |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকের আগেই আলিম উদ্দিন (৪৭) নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৯ মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ডিঙ্গেদাহ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আলিম উদ্দিন ওই ইউনিয়নের মোকামতলা গ্রামের মরহুম ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে।

নিহতের ভাই কালু মণ্ডল জানান, আলিমের ছেলে জিয়ারুলের কাছে লিয়াকত আলীর ছেলে আল আমিন ভুট্টা বিক্রির কিছু পাওনা টাকা পেতেন। প্রায় দু’বছর ধরে টাকা পরিশোধ না করে নানাভাবে ঘুরানো হচ্ছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কাছে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

তিনি আরো জানান, সালিশে বসার আগেই অভিযুক্ত লিয়াকত ও তার ছেলে আল আমিন সেখানে এসে অতর্কিতভাবে আলিমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার বুকে ও পিঠে এলোপাতাড়ি লাথি-ঘুষি মারা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মহিবুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের সমাধানের জন্য আলিম উদ্দিনসহ কয়েকজন আমার কাছে এসেছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত লিয়াকত আলী ও তার ছেলে সেখানে এসে হামলা চালায়। আমি চেয়ার থেকে উঠতে উঠতেই আমার সামনেই ঘটনাটি ঘটে। পরে আলিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়েছে। আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’