আড়িয়াল খাঁ নদের কোল ঘেঁষে অবস্থিত নান্দনিক মসজিদের চারটি আকর্ষণীয় টাওয়ার সড়কে যাতায়াতকারী পথচারীর দৃষ্টি কাড়ছে। মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথেই বিশাল খিলান আকৃতির দরজা যেন দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছে। সূর্যালোকের এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মনের শান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বলছিলাম মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার খাসেরহাট এলাকার বাইতুর রায়ান মসজিদের কথা। ২০০-৩০০ মানুষের একসাথে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মসজিদটি। প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মাথায় ২০২৫ সালে ফ্রান্সে অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক ডিজাইন প্রতিযোগিতায় গ্লোবাল ডিএনএ প্যারিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে মসজিদটি। এটির কারুকার্য নান্দনিক হওয়ায় পুরষ্কার পাওয়ায় খুশি মুসল্লিরা।
জানা যায়, স্থায়িত্ব ও নান্দনিকতার জন্য লাল ইট ও মেঝেতে মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদের গম্বুজটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন তা ভেসে থাকে এবং এর মধ্য দিয়ে আসা প্রাকৃতিক আলো ভেতরে প্রবেশ করে এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। এমনকি গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমেও ভেতরের চারপাশ ঠাণ্ডা রাখে।
নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার জুমার দিনে জেলার বাইরের উপজেলা শহর এমনকি গ্রামগঞ্জের মুসল্লীরা ছুটে আসেন এখানে। আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে পুরোটাই ব্যক্তিগত অর্থায়নে নির্মাণ করা হয় মসজিদটি। দিনের পাশাপাশি রাতেও এখানে ছড়ায় মুগ্ধতা, বলছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
মুসল্লি মো: মানিক রহমান বলেন, ‘অন্যান্য মসজিদের থেকে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এর কারুকার্য ব্যতিক্রম। আমি দীর্ঘদিন ঢাকা শহরের অনেক মসজিদে নামাজ আদায় করেছি। সেখানে এমন মসজিদ কখনো চোখে পড়েনি। কোনো লাইট ছাড়া এমন আলো ভেতরে প্রবেশ করে, তা নিজচোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না।’
প্রবাসী লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি দেশ-বিদেশে অনেক মসজিদ দেখেছি। কিন্তু এমন সুন্দর মসজিদ সত্যিই মুগ্ধ করে। নামাজ আদায় করে মনে তৃপ্তি বাড়ে। যারা নির্মাণ করেছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো: আরিফ সরদার বলেন, ‘আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে এমন একটি মসজিদ আসলেই এলাকার পরিচিত বাড়ায়। এছাড়া গ্লোবাল ডিএনএ প্যারিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করায় আমরা এলাকাবাসী গর্বিত ও খুবই আনন্দিত।’
মসজিদটির মুয়াজ্জিন মো: আব্দুল্লাহ আল মাহের বলেন, ‘খুব অল্প সময়ে আন্তর্জাতিক মানের এমন একটি পুরষ্কার পাবো তা বুঝতে পারিনি। এই অ্যাওয়ার্ড আমাদের মনের তৃপ্তি বাড়ায়। দূর-দূরান্তের মুসল্লিরাও এখানে নামাজ আদায় করতে আসে। আমি শুরু থেকেই এখানে মুয়াজ্জিন হিসেবে কর্মরত। খুব ভাল লাগে এমন সুন্দর একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে থাকতে পেরে।’
মসজিদটির ইমাম মুফতি আবু হোসাইন ফরিদি বলেন, ‘সারাদেশে অনেক মসজিদ দেখেছি। কিন্তু এতো সুন্দর দৃষ্টিনন্দন মসজিদ খুবই কম আছে। এখানে নামাজ পড়িয়ে খুব ভাল লাগে। ভেতরে কখনই গরম লাগে না। এক কথায় মসজিদটি অসাধারণ।’



