ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেমে মনিটরিংয়ের আওতায় পদ্মা সেতু

নির্দিষ্ট দূরত্বে পদ্মা সেতু এলাকাজুড়ে সার্ভিলেন্স, ভিডিও সার্ভিলেন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) চার ধরনের ভিডিএস ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

গোলাম মঞ্জুরে মাওলা অপু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

Location :

Louhajang
ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেমে মনিটরিংয়ের আওতায় পদ্মা সেতু করা হচ্ছে
ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেমে মনিটরিংয়ের আওতায় পদ্মা সেতু করা হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অধিকতর নিরাপত্তাজনিত নজরদারিতে পদ্মা সেতু ও সেতুর দু’ প্রান্তে অত্যাধুনিক সার্ভিলেন্স সিস্টেমের ১৩৩টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সেতু চালুর পর থেকে ধাপে ধাপে বসানো হয়েছে চার ধরনের এসব অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা।

সোমবার (১৯ মে) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাওয়া সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী (টোল, ব্রিজ অ্যান্ড বিইএফ ও রোড আরটিডব্লিউ অ্যান্ড বিল্ডিং) আবু সায়াদ নিলয় এসব তথ্য জানান।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া পদ্মা সেতুর উত্তর থানার সামনে থেকে জাজিরায় পদ্মা সেতুর দক্ষিণ থানা পর্যন্ত দু’ প্রান্তের টোল প্লাজা, টোল বুথ, ওজন স্কেল, সার্ভিস এলাকা ও সংযোগ সড়কে এসব ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে রেল চলাচলে সেতুর লোয়ার ডেকেও এসব ১০টি ক্যামেরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে। এতে করে পদ্মা সেতু ও আশেপাশের স্থানগুলো বুদ্ধিমান পরিবহন ব্যবস্থা বা ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিষ্টেমের বা (আইটিএস) আওতায় চলে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া জাজিরা থেকে পাচ্চর পর্যন্ত সংযোগ সড়কে আরো ১০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হলেও সেগুলোর কাজ চলমান রয়েছে। তবে আগামী মাসে এগুলো চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট দূরত্বে পদ্মা সেতু এলাকাজুড়ে সার্ভিলেন্স, ভিডিও সার্ভিলেন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স বা এআই) চার ধরনের ভিডিএস ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। উচ্চ ক্ষমতার এই সিসি ক্যামেরা ৩৬০ ডিগ্রী ঘুরে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জুম করাসহ চারদিকের পরিষ্কার ভিডিও চিত্র সংরক্ষণে সক্ষম হবে। এসব ক্যামেরায় দু’ ধরনের অত্যাধুনিক সুবিধার মধ্যে একটি ভিশন ডিটেকশন সিস্টেম ও রোড ওয়েদার অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বা আরডব্লিউআইএস। এটি ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া শনাক্তকরণ ব্যবস্থা যেমন বৃষ্টিপাত, বাতাসের গতিবেগ, তাপমাত্রা,আবহাওয়ার অবস্থা ও ঘন কুয়াশার সময় ভিজিবিলিটি বা দৃশ্যমানতার মাত্রাও নির্দেশ করতে পারে। এছাড়া এর মাধ্যমে যদি কখনো কোনো দুর্ঘটনা বা সমস্যা ঘটে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা যায় এবং দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এদিকে মাওয়া প্রান্তের সেন্টারে চারজন বসে টোলপ্লাজা এবং ট্রাফিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। পর্যবেক্ষণ কক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সেতু, দু’ প্রান্তের সার্ভিস লেন, দু’ টোল প্লাজাকে দূর থেকে নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে। যার ফলে সেতুতে কোনো দুর্ঘটনা হলে তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষক দল বা উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানোর পদক্ষেপ নেয়া সহজ হচ্ছে।

গত ঈদুল ফিতরের আগে পদ্মা সেতুতে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছিল। সেতুতে গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন কার্যকরের ক্ষেত্রেও ক্যামেরাগুলো গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা রাখছে। যার ফলে ভেরিয়েবল ম্যাসেজ সাইনবোর্ডের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন চলাচলের দিক নির্দেশনা দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও সড়কে ও যানবাহনের বিভিন্ন ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের শঙ্কাসহ অনিয়ম অনেকটা কেটে গেছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাওয়া সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী (টোল, ব্রিজ অ্যান্ড বিইএফ ও রোড আরটিডব্লিউ অ্যান্ড বিল্ডিং) আবু সায়াদ নিলয় নয়া দিগন্তকে জানান, পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে পদ্মা সেতুর লোয়ার ডেক, আপার ডেক, সংয়োগ সড়ক, ওজন স্কেলসহ দু’ পাশের টোলপ্লাজা এসব ক্যামেরা দিয়ে ফুল অপারেশনে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে। দু’ পাশের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কে সিসি ক্যামেরা যুক্ত হওয়ায় সেতুতে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম বা আইটিএস এর আওতায় চলে এসেছে। সেতু চালুর পর থেকে পদ্মা সেতুর জাজিরা ও মাওয়া টোল প্লাজা এবং ওয়েস্কেলসহ পর্যায়ক্রমে মোট ৮২টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এছাড়া জাজিরা থেকে পাচ্চর পর্যন্ত সংযোগ সড়কে আরো ১০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বৈদ্যুতিক সংযোগসহ সেগুলোর কিছু কাজ চলমান রয়েছে। আগামী মাসে এগুলো চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আরো জানান।

ঢাকা-মাওয়া রুটের একটি পরিবহন কোম্পানির সুপারভাইজার মো: মাসুদ জানান, পুরো পদ্মা সেতু এলাকাটি সিসি ক্যামেরায় আওতায় আসায় এখানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ নিরাপত্তা অনেক বেড়েছে। এতে অবশ্যই খুব ভালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সকলেই মনে করছেন।