নড়াইলে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত জনতার হাতে আটক

চিকিৎসক জানান, জান্নাতুলকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নড়াইল প্রতিনিধি

Location :

Narail
অভিযুক্ত রবিউল সিকদার
অভিযুক্ত রবিউল সিকদার |নয়া দিগন্ত

নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামে শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল সিকদারকে (৩৫) দত্তপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তাকে আটক করা হয়। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত রবিউল রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে।

জানা গেছে, সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে প্রতিবেশী ও ফুফাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল ঘটনার পর পালিয়ে যান।

জান্নাতুল দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। এদিকে, হত্যার প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নিহত জান্নাতুলের চাচা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান সোমবার বিকেলে স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে আসেন। জান্নাতুল সেই মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী ফুফাতো ভাই রবিউল তাদের বাড়িতে জান্নাতুলকে ডেকে নেয়। ঘণ্টাখানেক পরও জান্নাতুল বাড়িতে না আসায় তাকে পরিবারের লোকজন আশেপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রবিউলের ঘরের মেঝো থেকে কাপড় দিয়ে ঢাকা জান্নাতুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। রবিউল একাই তার ঘরে থাকতেন। বিবাহিত হলেও অনেক দিন ধরে তার স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে ছিল না।

এ ব্যাপারে সীমাখালী গ্রামের এনামুল সরদারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বলেন, ধর্ষণের পর শিশু জান্নাতুলকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অভিযুক্ত রবিউলসহ তার পরিবারের কোনো সদস্য এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার বলেন, ‘শিশু জান্নাতুলকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’