কাউখালীতে সরিষার বাম্পার ফলন

ভোজ্য তেলের দাম বেশি থাকায় নিজেদের চাহিদা মেটানো ও বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৩৩ শতাংশ জমিতে বিনা সরিষা-১১ জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় লাভ বেশি হওয়ার আশা করছি।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৭০ হেক্টর জমি
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৭০ হেক্টর জমি |নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের কাউখালীতে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের সুবাতাস।

অল্প খরচে বেশি লাভ ও ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। আবহাওয়া অনুকূল ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৭০ হেক্টর জমি। কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনা সরিষা-৯ ও বিনা সরিষা-১১ জাতের আবাদ বেশি হয়েছে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেউন্দ্রিয়া গ্রামের কৃষক মো: শাওন জানান, ‘ভোজ্য তেলের দাম বেশি থাকায় নিজেদের চাহিদা মেটানো ও বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৩৩ শতাংশ জমিতে বিনা সরিষা-১১ জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় লাভ বেশি হওয়ার আশা করছি।’

অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর সরিষা গত বছরের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করছেন সোনাকুর গ্রামের কৃষক সজল বৈরাগী ও হোগলা গ্রামের কৃষক লাকি হাওলাদার।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রদীপ কুমার হালদার বলেন, ‘আমাদের কৃষি বিভাগ উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তেল ফসল আবাদের উদ্ধৃতকরণের মাধ্যমে সরিষা ফলনের জন্য কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া ফসলের রোগ বালাই প্রতিরোধ ও পরিচর্যা বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস জানান, ‘এ বছর কাউখালী উপজেলায় মোট ৬৬ হেক্টর জমিতে বিনা সরিষা-৯ ও বিনা সরিষা-১১ আবাদ হয়েছে। যার ফলন হয়েছে প্রায় ১২০ মেট্রিক টন। যা থেকে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন তেল উৎপাদন হবে।’