লিবিয়া থেকে সাগরপথে নৌকায় করে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নয় মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানায় একটি এবং দিরাই থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে নিহতদের স্বজনরা পৃথকভাবে এ দুটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদি হয়েছেন ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান ও জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান।
গত শনিবার লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটে। তাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশী এবং এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার ১২ জন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন এবং জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো: নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাহান এহিয়া (২৫), রাজানগর ইউনিয়নের আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েক মিয়া ও বাসুরি গ্রামের সোহাস, দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিম, জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান, টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়েক আহমেদ, চিলাউড়া কবিরপুর গ্রামের মো: নাঈম, পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান ও ইছগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী।
এঘটনায়, নিহতদের পরিবারসহ এলাকায় শোকের মাতম চলছে। তাদের আহাজারি থামছে না। স্বজনরা মানব পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
টিয়ারগাঁও গ্রামের নিহত শায়েক আহমেদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাবা আখলুছ মিয়া উঠানে পড়ে বিলাপ করছেন।
তিনি বিলাপ করে বলেন, ‘আমার পোলারে আইন্যা দে। আমার পোলারে না খাওয়াইয়া মারছে। আমি দালাল আজিজুলের ফাঁসি চাই।’
তিনি জানান, ছেলেকে গ্রিসে পাঠাতে এলাকার ইছগাঁও গ্রামের দালাল আজিজুল ইসলামের কাছে দুই দফায় মোট ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন। আজিজুল বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তিনিই এলাকার যুবকদের লিবিয়া থেকে গ্রিসে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন।
দিরাই উপজেলার নিহত সাহান এহিয়ার বড় ভাই জাকারিয়া জানান, দালাল জসিমের সাথে প্রত্যেকের ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে গত মাসে তারা বাড়ি থেকে রওনা দেন। প্রথমে ছয় লাখ টাকা অগ্রিম দেয়া হয় এবং বাকি ছয় লাখ টাকা গ্রিসে পৌঁছানোর পর দেয়ার কথা ছিল। তাদের প্রথমে ঢাকা থেকে বিমানে সৌদি আরব, পরে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নেয়া হয়। কয়েকদিন ধরে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে শনিবার বিকেলে আত্মীয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় নয়জন দালালের নাম উল্লেখ করে এবং আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’



