কুষ্টিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অপরাধে এক যুবককে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) এর বিচারক জয়নাল আবেদীন আদালতে পলাতক আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জনি ওরফে রাজিম ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় ও দুজনের মধ্যে গড়ে উঠা সম্পর্কের সূত্রে নিজেকে সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে আসামি জনি ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি রাতে একই উপজেলার বাসিন্দা বাদি তরুণীর বাড়িতে দেখা করেন। এ সময় বাদির বাড়িতে বাবা মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে জনি বাদিকে ধর্ষণ করেন।
এরপর থেকে আসামি জনি ওই তরুণীকে বিয়ে করার প্রলোভন দিয়ে অসংখ্যবার ধর্ষণের একপর্যায়ে বাদি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে আসামি জনিকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়া হয়।
এ সময় আসামি জনি নিজেকে সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে প্রমোশন নিয়ে তার অফিসে ঘুষ দেওয়ার কথা বলে ৮ লাখ টাকা দাবি করেন বাদির পরিবারের কাছে। এতে একমাত্র কন্যার জীবনকে সুখী করার কথা ভেবে বাদি প্রবাসী বাবা আসামির দাবিকৃত টাকাও দেন।
এরপর থেকে আসামি বাদি বা তার পরিবারের সাথে সম্পূর্ণরূপে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং বাদির গর্ভে তার সন্তান হয়, বাদি চরিত্রহীন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন আসামি।
ইতোমধ্যে ২০২৩ সালের ২ মার্চ আসামিরে ঔরসে বাদির গর্ভে একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এতে উপায়ান্তর না পেয়ে ২০২৩ সালের ২২ জুনে বাদি কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশি মামলা করেন।



