ট্রাকচাপায় যুবদল নেতা নিহত, গাড়ি চালকের ৩ দিনের রিমান্ড

‘১ ও ২ নম্বর আসামি মিলে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে ড্রামট্রাক দিয়ে আমার বাবার গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে তাকে হত্যা করেছেন। আমার বাবার খুনীদের বিচার দাবি করছি।’

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Location :

Mirsharai
নিহত মিরসরাই উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন
নিহত মিরসরাই উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন হত্যামামলার আসামি ড্রামট্রাকের চালকের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার (২৫ মার্চ) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরিন হীমা তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

ড্রামট্রাকের চালক খলিল হাওলাদার মামলার এজহারনামীয় ৬ নম্বর আসামি। গত ১২ মার্চ খলিল হাওলাদারকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পরদিন (১৩ মার্চ) ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গতকাল বুধবার (২৪ মার্চ) ওই হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। একইদিন রিমান্ড আবেদন করলে আজ বুধবার সেটির শুনানির দিন ধার্য্য করা হয়।

এর আগে, ১৪ মার্চ নিহত কামাল উদ্দিনের ছেলে মো: আরাফাতুল ইসলাম জোরারগঞ্জ থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন— চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক শওকত আকবর সোহাগ, মঘাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম, যুবদল নেতা মো: ফয়সাল, রবিউল ইসলাম সাইফুল, ব্যবসায়ী মো: বাদশা ও ড্রামট্রাক চালক খলিল হাওলাদার। খলিল হাওলাদারকে ঘটনার পরেই আটক করা হয়।

নিহতের ছেলে আরাফাতুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবা কামাল উদ্দিন রাজনীতির পাশাপাশি ইকনোমিক জোনে ব্যবসা করে আসছিল। ১ নম্বর আসামি শওকত আকবর সোহাগের সাথে আমার বাবার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তিনি বেশ কয়েকবার আমার বাবাকে হত্যার হুমকিও দেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘২ নম্বর আসামির কাছে ব্যবসায়ীক ৫০ লাখ টাকা পান আমার বাবা। টাকা না দেয়ায় আমার বাবা কামাল উদ্দিনের সাথে বিরোধ তৈরি হয়। ১ ও ২ নম্বর আসামি মিলে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে ড্রামট্রাক দিয়ে আমার বাবার গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে তাকে হত্যা করেছেন। আমার বাবার খুনীদের বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘যুবদল নেতা কামাল হত্যামামলায় এজাহারনামীয় ৬ নম্বর আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হয়তো হত্যা না-কি দুর্ঘটনা বুঝা যাবে।’

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ড্রাম ট্রাকের চাপায় যুবদল নেতা কামাল উদ্দিনের গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনি নিহত হন। ঘটনার পর থেকেই নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যা হিসেবে দাবি করে আসছে। নিহত কামাল উদ্দীনের ছেলে গত ১৪ মার্চ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে জোরারগঞ্জ থানায় হত্যামামলা দায়ের করেন।