ঝালকাঠিতে উদ্বোধনের আগেই ফাটল ৭ লাখ টাকার ঘাটলায়

৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস মাহামুদুল ইসলাম নান্টু ঘাটলাটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। তবে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ঘাটলার মাঝামাঝি অংশে দৃশ্যমান ফাটল দেখা যায়। এতে ঘাটটির স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Location :

Jhalokati
ঝালকাঠি পৌর এলাকার মিনি পার্ক সংলগ্ন পুরাতন কলেজ খেয়াঘাটে নির্মিত ঘাটলা
ঝালকাঠি পৌর এলাকার মিনি পার্ক সংলগ্ন পুরাতন কলেজ খেয়াঘাটে নির্মিত ঘাটলা |নয়া দিগন্ত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠি পৌর এলাকার মিনি পার্ক সংলগ্ন পুরাতন কলেজ খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারের সুবিধার্থে একটি ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। ৭ লাখ টাকা ব্যায়ে নবনির্মিত কংক্রিটের ঘাটলাটি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, ট্রলারচালক ও যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস মাহামুদুল ইসলাম নান্টু ঘাটলাটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। তবে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ঘাটলার মাঝামাঝি অংশে দৃশ্যমান ফাটল দেখা যায়। এতে ঘাটটির স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নিয়মিত ট্রলারচালক ও যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, "অতিরিক্ত লাভের আশায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় এমন অবস্থা হয়েছে। কাজের মান ঠিক থাকলে এত দ্রুত ফাটল ধরার কথা নয়।"

স্থানীয়দের কেউ কেউ আরো অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাজের সময় ট্রলার চালকদের ঘাট এলাকায় যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তবে কয়েকজন স্থানীয় যুবক প্রকাশ্যে অভিযোগ করে বলেন, "এই ঘাট ছয় মাসও টিকবে না।" তারা দ্রুত ঘাটটির ত্রুটি নিরসন করে ঝুঁকিমুক্ত অবস্থায় উদ্বোধনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কাজের মান যাচাই করা হবে। সবকিছু সন্তোষজনক হলে তবেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজ হস্তান্তর নেয়া হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে ঠিকাদারকে তা সংস্কারের নির্দেশ দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ঝালকাঠি-নলছিটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে পুরাতন কলেজ খেয়াঘাটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা সুগন্ধা নদী পেরিয়ে এই ঘাট ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। তাই জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।