বরিশালের উজিরপুরে শোলক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মূল প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা বর্তমানে একটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালজুড়ে ফাটল। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প ভবন না থাকায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলছে শোলক ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে ও ভেতরে শতাধিক মানুষের ভিড়। বৃষ্টির কারণে অনেকেই ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়া ও ছাদের ফাটল দেখে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। অনেককে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ হাজার মানুষের নাগরিক সেবার দায়িত্ব পালন করে শোলক ইউনিয়ন পরিষদ। বহু বছরের পুরোনো ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবু বিকল্প ভবন না থাকায় সেখানেই নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিবন্ধী ভাতার অনলাইন কার্যক্রমের জন্য আসা কবির হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যে অপেক্ষা করছি। প্রচুর মানুষের ভিড়, বসারও জায়গা নেই। ভবনের অবস্থা দেখে ভয় লাগে।’
টিসিবির সেবা নিতে আসা মিতু বেগম বলেন, ‘পুরোনো ভবনটি ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। তবু বাধ্য হয়ে এখানেই আসতে হয়।’
শোলক ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব সুশান্ত কুমার মিত্র বলেন, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সেবা নিতে অনেক মানুষ আসেন। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানেই কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।’
উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা বলেন, ‘শোলক ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’



