কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এম আনছারুজ্জামান বলেছেন, ‘কাঁঠাল থেকে যে পণ্য তৈরি হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে এটাকে বিদেশেও যদি রফতানি করা যায় সে ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করবো। কাঁঠাল থেকে পণ্য-প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে, এটা নিঃসন্দেহে এট আমাদের জন্য খুব ভালো সংবাদ। সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় ও হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা আছে এবং থাকবে। আমরাও চাচ্ছি যে এ ধরনের উদ্যোক্তা যাতে আরো তৈরি হোক।
রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বৈরাগীরচালা এলাকায় মুমতাহিনা ফুড অ্যান্ড ওয়েল মিলস লিমিটেডের মেহমান কাঁঠাল বিস্কুট কারখানা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
সচিব বলেন, ‘প্রতি বছর সিজনে প্রচুর কাঁঠাল উৎপাদন হয়, তখন প্রচুর পরিমাণ কাঁঠাল নষ্ট হয়। সেক্ষেত্রে যাতে শুধু কাঁঠাল নয়, এরকম আরো অনেক প্রোডাক্ট আছে যেমন ধরেন টমেটো, আনারস এগুলো যখন ফুল সিজন, তখন দেখা যায় অনেক প্রোডাকশন বেশি হওয়াতে এগুলো নষ্ট হয় অথবা বাজারে কৃষক তেমন দাম পায় না। যদি এ ধরনের প্রোডাক্ট তৈরি করা যায় বা আরো উদ্যোক্তা তৈরি করা যায়, সেক্ষেত্রে উদ্যোক্তারাও লাভবান হবে এবং দেশের মানুষও উপকৃত হবে। পর্যায়ক্রমে যেন এটাকে বিদেশেও যদি রফতানি করা যায়, সে ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করবো।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার এবং হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোক্তাদের অবশ্যই সহযোগিতা থাকবে। তাদের যে সমস্যাসমূহ আছে এগুলো আমরা তাদের কাছ থেকে জেনে কীভাবে আরো এনহ্যান্স করা যায়, সে ব্যাপারে সহায়তা থাকবে।’
কাঁঠাল থেকে বিস্কুট উৎপাদনে সম্ভাবনা কেমন দেখছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, সম্ভাবনা তো আমি আশা করি।’
এ সময় তিনি পাশের উপজেলার একজন উদ্যোক্তা খাদিজা খানমের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘তার ওখানেও গিয়েছিলাম। তিনি কাঁঠাল থেকে যেমন চিপস তৈরি করেন, তারপর কাঁঠালের আচার, কাঁঠালের সবজি, আরো বেশ কয়েকটা প্রোডাক্টেও পাউডার। এই যে প্রোডাক্টগুলি তৈরি করছেন যেহেতু প্রিলিমিনারি অবস্থায়, আশা করা যায় যে এগুলো যখন পর্যায়ক্রমিকভাবে আরো হয়তো গবেষণার মাধ্যমে হোক বা যেভাবে হোক পর্যায়ক্রমিকভাবে আরো ভালো ফলাফল আমাদের দেবে এবং লার্জ স্কেলে তৈরি করতে পারবে। এটা হয়তো আগামী দিনগুলোতে কাঁঠাল এবং কাঁঠালজাত পণ্যের প্রসারের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আমরা যেহেতু টেস্ট করলাম শুধুমাত্র খেয়ে, প্রাথমিক অবস্থায় তো নিঃসন্দেহে ভালো। তবে এটার কোয়ালিটি টেস্ট করতে হলে তো আরো অনেকগুলো টেস্ট আছে, সেগুলো আমরা ল্যাব টেস্টসহ এর ইনগ্রেডিয়েন্টস কী কী আছে না আছে এ সবগুলো তো ল্যাব টেস্ট ছাড়া আসলে ওভাবে বলা যাবে না।’
যুগ্ম সচিব বলেন, ‘আপনারা জানেন অবশ্যই কাঁঠাল বিদেশে রফতানি করার জন্য সরকারও কিন্তু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে আমরা চিনে কিছু গ্যাপ ফলো করে কাঁঠাল উৎপাদন করার জন্য বেশ কয়েকটি খামার নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং আমরা এগুলোকে আরো প্রসারিত করছি। যাতে গ্যাপ ফলো করে কাঁঠাল উৎপাদন করা হয় এবং গ্যাপ ফলো করে উৎপাদন করে বিদেশে রফতানির ক্ষেত্রে তাদের কিছু ক্রাইটেরিয়া থাকে। সেই ক্রাইটেরিয়াগুলো ফুলফিল করা লাগে। ক্রাইটেরিয়াগুলো ফুলফিল করে উৎপাদন করলে আমরা আশা করি যে এর থেকে বড় একটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে চায়না খুব বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন যে আমাদের দেশ থেকে কাঁঠাল নেবেন। তবে সেক্ষেত্রে তাদের যে ক্রাইটেরিয়াগুলো আছে, সেগুলো আমাদের ফলো করতে হবে।’
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের যুগ্ম পরিচালক মিতুল কুমার সাহা, গাজীপুর জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বণ্যা, শ্রীপুর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার, কাপাসিয়া উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অলিফ আহমেদ, কাঁঠাল থেকে পণ্য তৈরির উদ্যোক্তা খাদিজা খানম, কাঁঠাল থেকে বিস্কুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মোহতাহিনা ফুড অ্যান্ড অয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী ও চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন উদ্যোক্তারা।



