কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে প্রতারণা করে ভাইদের সম্পত্তি প্রত্মতত্ব অধিদফতরে অন্তর্ভুক্তি করার অভিযোগ উঠেছে সৎ চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে। সম্পদ ফিরে পেতে ভুক্তভোগীরা প্রত্মতত্ব অধিদফতর বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল।
উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর এলাকায় অবস্থিত রঘুনাথ ভবন নামে জমিদার বাড়িটি ১.৩৭ একর সম্পত্তি প্রত্মতত্ব অধিদফতরে অন্তর্ভুক্তি করে ২০২৩ সালের ১৮মে গেজেট প্রকাশ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
অভিযুক্ত সৎ চাচাতো ভাইয়েরা হলেন ভৈরব উপজেলার বাসিন্দা রনদা প্রসাদ রায়ের ছেলে বিপ্লব রায়, শিব শংকর সাহা রায়ের ছেলে শিপন সাহা এবং রবিন্দ্র রায়ের ছেলে শুভ রায় দ্বীপন।
ভুক্তভোগীরা হলেন শশী মোহন সাহা রায়ের ছেলে স্বপন কুমার সাহা রায়, উত্তম কুমার রায়, গৌতম রায় (সোখন), অশেষ কুমার সাহা রায় এবং অসীম কুমার সাহা রায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার মির্জাপুর মৌজার ১.৩৭ একর সম্পত্তি যা ‘রঘুনাথ ভবন’ নামে পরিচিত। যার সিএস রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন জমিদার রায় মোহন সাহা রায়। জমিদার রায় মোহন সাহা রায়ের প্রথম স্ত্রীর সন্তান শশী মোহন সাহা রায় তার পাঁচ ছেলে সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত এ জমিদার বাড়িটিতে বসবাস করে আসছেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানেরা কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব এলাকায় বসবাস করতেন।
জমিদার রায় মোহন সাহা রায়ের প্রথম স্ত্রীর সন্তান শশী মোহন সাহা রায় মারা গেলে তার পাঁচ ছেলে ওই বাড়িটিতে বসবাস ও দেখভাল করে আসছেন। সম্প্রতি বাড়ির লোকজন পানি নিস্কাশনের জন্য একটি ড্রেন নির্মাণ করতে গেলে প্রত্নতত্ব অধিদফতর থেকে তাদেরকে বাধা দেয়া হয়। কারণ জানতে চাইলে তারা জানতে পারেন এই বাড়িটি ইতোমধ্যে প্রত্নতত্ব অধিদফতরের তালিকাভূক্ত তাই এটির কোনো সংস্কার বা পরিবর্তন করা যাবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা রনজিত দেবনাথ, কেশব চন্দ্র সাহা এবং আব্দুস সাহিদ জানান, এই জমিদার বাড়িটি সম্পূর্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি। তাদের তিন সৎ ভাই মিলে নিজেদের অংশ বিক্রি করে দিয়ে এই বাড়িটির বাকী অংশ সরকারের প্রত্নতত্ব অধিদফতরে অন্তর্ভূক্তি করার জন্য আবেদন করেন।
ভুক্তভোগী অশেষ কুমার সাহা রায় বলেন, জমিদার রায়মোহন সাহা রায় এর ১১ জন ওয়ারিশদের মধ্যে মাত্র তিনজন ওয়ারিশ শঠতাপূর্ণভাবে রঘুনাথ ভবনকে প্রত্নতত্ত্ব ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণ করে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রঘুনাথ ভবনের সকল মালিকদের সম্মতি ব্যতিরেকে কোনো সম্পত্তিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা বেআইনি। তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি পুরাকীর্তি আইন, ১৯৬৮ এর ধারা ১১ অনুযায়ী সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ তালিকা হতে বাতিলপূর্বক, আমদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের সুযোগ করিয়া দিতে ও গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভাষ্যদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করিতে সরকারের হস্থক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে প্রত্নতত্ব অধিদফতরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক আফরুজা খানম মিতা জানান, প্রত্নতত্ব অধিদফতরের তালিকাভুক্ত এই বাড়িটিতে বসবাসরত লোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা এই বাড়িটি পরিদর্শন করেছি। কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।



