বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ সরকারের

‘সরকার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষে বাড়ির ছাদ থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা—যেখানেই সুযোগ আছে, সেখানেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে।’

খুলনা ব্যুরো

Location :

Khulna
খুলনায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম
খুলনায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম |নয়া দিগন্ত

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, ‘সরকার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষে বাড়ির ছাদ থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা—যেখানেই সুযোগ আছে, সেখানেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। নাগরিকরা নিজেদের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তাও দিয়েছে সরকার।’

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) খুলনায় অবস্থিত বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেডে (বাকেশি) স্থাপিত ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার প্ল্যান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যেই বাকেশির সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রায় এক মাস আগেই এটি উৎপাদনে গেছে। কারখানার নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৫ লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত প্রকল্পটির বিনিয়োগ তিন থেকে চার বছরের মধ্যে উঠে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ প্রাকৃতিক শক্তির উৎস। বর্তমান জ্বালানি সঙ্কটের বাস্তবতায় এর ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ জন্য সাধারণ মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহিত করছে সরকার। ১ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাসিক কিস্তিতে সেই ঋণ পরিশোধ করা যাবে। সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতেও কর ও শুল্ক সুবিধা রয়েছে। বাকেশির ১ মেগাওয়াটের প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কারখানার প্রায় ৯০০ কিলোওয়াট চাহিদা মেটাচ্ছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্ল্যান্টটির সক্ষমতা ২ মেগাওয়াটে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘অব্যবহৃত প্রায় ৩০ হাজার একর জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। পাশাপাশি বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও চলছে। বিটিসিএল, টেলিটক, সাবমেরিন কেবল, হাইটেক পার্কসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জায়গার সুযোগ অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব এবং বাকেশি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বিলকিস জাহান রিমি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ও বাকেশি পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মো: আবদুল্লাহ হারুন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) বিতান কুমার মন্ডল।

অন্যদের মধ্যে বাকেশির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল ইসলাম, জেনারেল ম্যানেজার এনামুল হক এবং কর্মচারী সমিতির সভাপতি শাহজাহান বক্তব্য দেন।