সিলেটে হামের ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১০ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪২ জনে। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে ১ হাজার ৪ জনে পৌঁছেছে।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো: মাহবুবুল আলম এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪১, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩৬, রাজীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুই, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নয় এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন রয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩২৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৩১, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮৪, রাজীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৬, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে আট, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আট, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩২, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৩৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩২৬, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৬৭ জন। আক্রান্তের দিক থেকে সুনামগঞ্জে রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আট মাস বয়সী শিশু রুহির মৃত্যু হয়েছে। সে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাবে, চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে মারা যাওয়া ১৪২ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৩২ জন।
জেলাভিত্তিক হিসাবে, এ পর্যন্ত সিলেটে ৫৫, হবিগঞ্জে ১৮, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং সুনামগঞ্জে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর দিক থেকেও সুনামগঞ্জে সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
হামের এই বিস্তার নিয়ে সিলেট বিভাগে উদ্বেগ বাড়ছে। একদিকে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, অন্যদিকে প্রতিদিনই নতুন করে সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন এবং মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।



