ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত রাইসা মনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়া ঈদগাহ ময়দানে জানাজা নামাজ শেষে বাজড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব থেকে ডিএনএ টেস্টের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাইসা মনিসহ ওই দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের পর রাতেই ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ভোর রাতে আলফাডাঙ্গায় গ্রামের বাড়ি পৌঁছান তারা।
রাইসা মনি (১১) মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। দুর্ঘটনার পর থেকে তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। এ ঘটনায় শোকে বিহ্বল হয়ে উঠেন তার মা-বাবা, আত্মীয়সহ পরিচিতরা।
রাইসা মনির বাবা শাহাবুল শেখ বলেন, বিমান বিধ্বস্তের পরদিন মঙ্গলবার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ডিএনএ ল্যাবের সদস্যরা। পরে তার লাশ শনাক্ত করার পর হস্তান্তর করা হলে রাতেই গ্রামের বাড়ি রওনা হই। বাড়িতে পৌঁছাতে ভোর হয়ে যায়। এরপর শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে জানাজা শেষে বাজড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানা গেছে, তিন ভাই-বোনের মধ্যে রাইসা ছিল মেঝো। সিনথিয়া (১৩) নামে তার একটি বড় বোন ও রাফসান শেখ (৪) নামে ছোট একটি ভাই রয়েছে। সন্তানের মৃত্যুতে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন এই শাহাবুল-মিম দম্পতি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাইসা মনির মা-বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে-মেয়েকে ভালো স্কুলে পড়ানোর। উচ্চশিক্ষায় সু-শিক্ষিত করে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। সে লক্ষ্যে ভর্তি করেছিলেন উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। রাইসা মনি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো। একই স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে তার বড় বোন সিনথিয়া।
স্থানীয় ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘রাইসা মনির অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকার মানুষ শোকে বিহ্বল। তার লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। এমন কোনো মানুষ নেই তার জন্য কাঁদেনি।
উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনে বিধ্বস্ত হয়। সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩১ জন নিহত ও আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬৯ জন।



