অভিনব হালখাতা

ইজি বাইকে মাইকিং, বাকি তুলতে গ্রাহকের দরজায় ব্যবসায়ী

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় গ্রামীণ জনপদে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। প্রচলিত দোকানভিত্তিক হালখাতার ধারা ভেঙে এক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী ইজি বাইকে মাইকিং করে নিজেই পৌঁছে যাচ্ছেন গ্রাহকের বাড়ির সামনে, পণ্য বিক্রি যেমন করছেন, তেমনি বছরের বকেয়া হিসাবও মিটিয়ে নিচ্ছেন সেখানেই।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

Location :

Damurhuda
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ইজি বাইকে মাইকিং, বাকি তুলতে গ্রাহকের দরজায় ব্যবসায়ী
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ইজি বাইকে মাইকিং, বাকি তুলতে গ্রাহকের দরজায় ব্যবসায়ী |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় গ্রামীণ জনপদে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। প্রচলিত দোকানভিত্তিক হালখাতার ধারা ভেঙে এক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী ইজি বাইকে মাইকিং করে নিজেই পৌঁছে যাচ্ছেন গ্রাহকের বাড়ির সামনে, পণ্য বিক্রি যেমন করছেন, তেমনি বছরের বকেয়া হিসাবও মিটিয়ে নিচ্ছেন সেখানেই।

স্থানীয়দের ভাষায়, হালখাতা এখন আর দোকানে নয়, নিজেই দরজায় কড়া নাড়ছে।

জানা যায়, দর্শনা পৌর এলাকার বাসিন্দা কাত্তিক নামের এ ব্যবসায়ী সারা বছর গ্রাহকদের কাছে বাকিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, সবজি, ডাল, চালসহ কাচাবাজারের বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করেন। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এসে তিনি শুরু করেন তার ভ্রাম্যমাণ হালখাতা কার্যক্রম। ইজি বাইকে সাউন্ড সিস্টেম বসিয়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে আগাম ঘোষণা দেন।

এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই বিষয়টিকে দেখছেন এক ধরনের আধুনিক ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে, যেখানে গ্রাহক ও বিক্রেতার দূরত্ব কমে এসেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আবার কেউ কেউ নিচ্ছেন রসিকতার ছলে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আগে হালখাতা মানেই ছিল দোকানে গিয়ে হিসাব মেলানো, এখন তো দেখছি হালখাতাই বাড়িতে চলে আসছে।

অন্য একজনের মন্তব্য, বকেয়া থাকলে এখন আর লুকানোর সুযোগ নেই, মাইকিং দিয়েই হাজির। তবে হাস্যরসের বাইরে এ উদ্যোগে রয়েছে বাস্তব সুবিধাও।

কয়েকজন গ্রাহক জানান, বাজারে যাওয়ার ঝামেলা ছাড়াই ঘরের সামনে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, একইসাথে পুরনো হিসাবও মিটে যাচ্ছে সহজেই। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বাচছে।

ব্যবসায়ী কাত্তিক জানান, তার এ ভ্রাম্যমাণ ইজি বাইকভিত্তিক মুদি ও কাঁচাবাজার ব্যবসা ইতোমধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর এ সময়ে প্রায় দুই লাখ টাকার বকেয়া আদায় করতে হয়। মাইকিং করে বাড়ি বাড়ি গেলে সবাই সহজেই টাকা পরিশোধ করে দেন। এরপর আবার নতুন করে কেনাবেচা শুরু হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ অভিজ্ঞতা তাকে ব্যবসা সম্প্রসারণে উৎসাহিত করছে এবং ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।’

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। প্রযুক্তির সহজ ব্যবহার, সরাসরি গ্রাহক সংযোগ এবং সেবার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার এ মডেল ভবিষ্যতে আরো বিস্তৃত হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

সব মিলিয়ে, চুয়াডাঙ্গার এ ভ্রাম্যমাণ হালখাতা এখন শুধু একটি ব্যবসায়িক কৌশল নয়, এটি হয়ে উঠেছে এক নতুন সামাজিক অভিজ্ঞতা।