নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের সৈয়দপুর নির্বাচনী অফিসে আওয়ামী লীগ নেতাদের মাধ্যমে ভোট কেনার জন্য টাকা বিতরণকালে জনগণ কর্তৃক ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে শহরের নতুন বাবুপাড়া শহীদ বদিউজ্জামাল সড়ক (তিলখাজা রোড) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশসহ মোবাইল কোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এসময় জাপা প্রার্থীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জাপা প্রার্থীর এই নির্বাচনী অফিস থেকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক ও তার ছেলের মাধ্যমে ভোট কেনার জন্য টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ায় এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়। এসময় কিছু আওয়ামী নেতাকর্মী নারী-পুরুষ দ্রুত পালিয়ে যান এবং গেট বন্ধ করে দেন। তখনও ভেতরে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেল ও বেশ কয়েকজন লোক অবস্থান করছিলেন।
তারা আরো জানায়, বিষয়টি সাংবাদিক ও প্রশাসনকে জানানো হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহদী ইমাম পুলিশসহ মোবাইল কোর্ট গাড়ি নিয়ে আসেন। কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে না দাঁড়িয়ে হুইসেল বাজিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। এতে উপস্থিত লোকজন তাদের আটকিয়ে জাপা নির্বাচনী অফিসে তল্লাশি চালানোর দাবি জানায়। জনতার চাপে প্রশাসন গাড়ি থেকে নেমে অফিসার গেটে যান। কিন্তু গেট বন্ধ থাকায় সেখানেই অবস্থান করেন। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও ভেতর থেকে গেট খোলা হয়নি। এক পর্যায়ে গেট ও ভবনের বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়। আর এই সুযোগে ভেতরে থাকা জাপা প্রার্থীর লোকজন পেছন দিকের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান এবং টাকা সরিয়ে ফেলা হয়। ইতোমধ্যে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপচে পড়ে। পরে ওই অফিস তল্লাশি করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহদী ইমাম বলেন, ‘জনগণের অভিযোগ অনুযায়ী জাপা প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে কোনো টাকা বা আওয়ামী লীগের লোকজনকে পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করায় জাপা প্রার্থীর পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।’
প্রশাসনের বিলম্বের কারণে টাকাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা সটকে পড়েছে অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।



