আট বছরেও চালু হয়নি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভবনের কার্যক্রম দেড় বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি।

আতিকুর রহমান মানিক, ঈদগাঁও (কক্সবাজার)

Location :

Jhalokati
আট বছরেও চালু হয়নি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা
আট বছরেও চালু হয়নি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা |নয়া দিগন্ত

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভবনের কার্যক্রম দেড় বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি। প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নয়তলা নতুন ভবনটি উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর পার হলেও লিফট স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবলসঙ্কট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে জেলার কয়েক লাখ মানুষ এখনও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ হলেও সেবার পরিধি বাড়েনি। জটিল রোগ তো বটেই, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ চিকিৎসার জন্যও রোগীদের বরিশালসহ বিভাগীয় শহর কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল। ২০০৩ সালে এটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। পরে ২০১৮ সালে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে নয়তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়।

নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও ২০২৩ সালের অক্টোবরে নতুন ভবনের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ভবনটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। একই সাথে ভবনের লিফট স্থাপনের কাজও শেষ হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, কার্যাদেশ অনুযায়ী তাদের নির্মাণকাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। একাধিকবার ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি। ফলে ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা পৌর শহরের বাসিন্দা কলি আক্তার বলেন, নতুন বড় ভবন হয়েছে দেখে ভেবেছিলাম সব ধরনের চিকিৎসা এখানেই পাব। কিন্তু এখনো আগের মতোই ভিড়, জায়গার সঙ্কট আর অনেক পরীক্ষার জন্য বাইরে যেতে হয়। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু হলে আমাদের অনেক উপকার হতো।

রোগীর স্বজন মো: সোহেল হোসেন বলেন, এত বড় ভবন তৈরি হওয়ার পরও মানুষ সেবা না পাওয়াটা হতাশাজনক।

নলছিটি উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে হাসপাতাল বানিয়েছে। এখন প্রয়োজন চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে দ্রুত ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা। তাহলে জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসা নিজ জেলাতেই পাবে।

ঝালকাঠি সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্যবান সেনগুপ্ত গোপাল বলেন, সরকারের প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি হাসপাতাল ভবন বছরের পর বছর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিশ্চিত না হলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিতই থাকবে। দ্রুত লিফট স্থাপন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ এবং ২৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মাসুম ইফতেখার বলেন, নতুন ভবনের তিনটি তলায় জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম চালুর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। বিদ্যমান জনবল দিয়েই দ্রুত এসব সেবা চালুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আমান উল্লাহ সরকার বলেন, ‘লিফট স্থাপনের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা যায়নি। আগামী নভেম্বরের মধ্যে লিফট স্থাপনসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে। এর আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে অংশ ব্যবহার করতে চাইবে, তা বুঝিয়ে দেয়া হবে।’

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৮০০ থেকে ১ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ২৫০ শয্যার হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘদিনের সঙ্কট অনেকটাই দূর হবে।