নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি জোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারণা চললেও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ‘রিকশা’ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আনোয়ার হোসেন। এটি সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের আসন হিসেবে পরিচিত।
সাম্প্রতিক কয়েকটি মাঠপর্যায়ের জরিপ ও স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী, এই আসনে তিনি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ভোটের লক্ষ্যমাত্রা ধরে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ ও জামায়াতের দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লার কোনো প্রার্থী নেই। রয়েছে দুই দলের জোট প্রার্থী।
জানা গেছে, খন্দকার আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, তার ভোটের সম্ভাব্য ভিত্তি কয়েকটি নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠী ও পেশাজীবী শ্রেণিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লা এলাকায় তাবলিগ জামাতের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বড় অংশের সাথে আনোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে। এই অংশের ভোটার সংখ্যা আনুমানিক ৫০ হাজার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ভোটার সাধারণত প্রকাশ্য রাজনৈতিক প্রচারণায় সক্রিয় না হলেও ভোটের দিন কেন্দ্রে উপস্থিত হন।
এছাড়া ফতুল্লা এলাকায় প্রায় পাঁচ শ’র অধিক মাদরাসা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোর আলেম ও শিক্ষক সমাজের অংশটি আনোয়ার হোসেনের প্রতি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তারা নিজ নিজ অনুসারী ও শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর প্রভাব রাখতে সক্ষম, যা নির্বাচনী হিসাবে ৩০ হাজার ভোটারকে প্রভাবিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সাথে খন্দকার আনোয়ার হোসেন । ছবি : নয়া দিগন্ত
নারায়ণগঞ্জের অর্থনীতিতে গার্মেন্টস শিল্প বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে। খন্দকার আনোয়ার হোসেন নিজেও দীর্ঘদিন গার্মেন্টস ব্যবসার সাথে যুক্ত। স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশের মধ্যে তার বিরুদ্ধে শ্রম অসন্তোষ বা বড় ধরনের বিরোধের অভিযোগ নেই বলে জানা গেছে। এই কারণে ১ লাখ শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ী ভোটারদের বড় অংশটি তার প্রতি আস্থাশীল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২১ সালের করোনা মহামারীর সময় তার নেতৃত্বে পরিচালিত ‘এহসান পরিবার’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এলাকায় আলোচিত হয়। সে সময় দলটি মুসলিম ও সনাতন ধর্মাবলম্বী উভয় সম্প্রদায়ের মৃতদের দাফন ও সৎকারে সহযোগিতা করে। স্থানীয়ভাবে অনেক পরিবার ওই সময় তার সহায়তা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই মানবিক কর্মকাণ্ড নির্বাচনে দলমতের বাইরে থাকা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে খন্দকার আনোয়ার হোসেনের ভোট সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা বাড়ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল নির্ভর করবে নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটার উপস্থিতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের ওপর।



