বেসামারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ‘এবার সকল সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিমুক্ত করে বাংলাদেশ বিমানকে একটি লাভজনক ও সম্মানিত স্থানে নেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই সংস্থাটির সকল বদনাম মুছে আগামীতে বিশ্বের অন্যতম একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। সকলের সহযোগিতায় আমরা এ কাজটি শুরু করেছি এবং আমি যখন থাকব না, তখনও এই কাজটি চলতে থাকবে বলে আমি আশাবাদী।’
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করায় আফরোজা খানম রিতাকে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তরিক সংবর্ধনা প্রদান করে মানিকগঞ্জ জেলার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) ও কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টবৃন্দ (CMA)।
বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে কর্মরত মানিকগঞ্জ জেলার সিএ ও সিএমএ এবং ছাত্র-ছাত্রীরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তারা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং ক্রেস্ট প্রদান করেন।
মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে মানিকগঞ্জ জেলায় কোনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি; বরং মানিকগঞ্জকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। গণমানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারাদেশে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে তা আরো বেগবান হবে এবং মানিকগঞ্জবাসী উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে। আমার বাবার মতো আমিও সারাজীবন মানিকগঞ্জবাসীর সেবা করে যাব।’
তিনি উপস্থিত সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘আসুন আমরা একসাথে, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে মানিকগঞ্জের উন্নয়ন করি এবং সকল বঞ্চনার অবসান ঘটাই।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা উপস্থিত সিএ ও সিএমএ পেশাজীবীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘পর্যটন খাত শুধু জাতীয় অর্থনীতিতেই ভূমিকা রাখে না; বরং এটি একটি দেশের ভাবমূর্তিরও প্রতিনিধিত্ব করে। তাই এ খাতের সামগ্রিক মান উন্নয়নে সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
অনুষ্ঠানে এই বিভাগে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর নামে ‘মুন্নু বৃত্তি’ চালু করার ঘোষণা দেন বিমানমন্ত্রী রিতা।
জি নবী অ্যান্ড কোম্পানির ফাউন্ডার পার্টনার মো: গোলাম নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) সেক্রেটারি জসীমউদ্দীন, আব্দুল মতিন, মো: মতিউর রহমান, মো: কামরুজ্জামান, মো: ওবায়দুল ইসলাম তমাল, মো: এখলাস উদ্দিন, মো: মোখলেছুর রহমান, মো: আওলাদ হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আয়োজনবৃন্দ পর্যটন খাত ও দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য বিমানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পেশাদার হিসাববিদ ও দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে তারা বিশ্বাস করেন যে, আফরোজা খানম রিতার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাত এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। মানিকগঞ্জের কৃতি সন্তান হিসেবে তার এই অর্জনে জেলার সর্বস্তরের মানুষ অত্যন্ত গর্বিত।
বক্তারা আরো উল্লেখ করেন, বর্তমানে পর্যটন খাত দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে এই মন্ত্রণালয়ের অবদান অপরিসীম। একজন গতিশীল নেতা হিসেবে মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পর্যটনশিল্পকে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন।


