আমতলীতে সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ : দুর্ভোগ চরমে, দ্রুত সংস্কার দাবি

সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ। খানাখন্দে ভরে গেছে আমতলী-তালতলী সড়কের মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা সড়কের ৮.৪ কিলোমিটার। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

Location :

Amtali
আমতলীতে সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ : দুর্ভোগ চরমে, দ্রুত সংস্কার দাবি
আমতলীতে সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ : দুর্ভোগ চরমে, দ্রুত সংস্কার দাবি |নয়া দিগন্ত

সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ। খানাখন্দে ভরে গেছে আমতলী-তালতলী সড়কের মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা সড়কের ৮.৪ কিলোমিটার। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে আমতলী-তালতলী উপজেলার অন্তত দুই লাখ মানুষ। দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, আমতলী-তালতলীর-ফকিরহাট পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার উপকূলীয় আঞ্চলিক সড়ক। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে বার্ষিক জিওবি মেইনটেনেন্স প্রকল্পের আওতায় ৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা ব্রিজ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার ৪০০ মিটার সড়ক নির্মাণে তিনটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা এলজিইডি।

বরগুনার ঠিকাদার মো: সগির হোসেন ওই সড়ক নির্মাণের কাজ পান। তিনি কাজ না করে দুই বছর কাজ ফেলে রাখেন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় ঠিকাদার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মো: সগির হোসেন কাজ শুরু করেন। শুরুতেই ঠিকাদার সগির নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কার্যাদেশ অনুসারে কাজ না করে নিজের ইচ্ছামাফিক কাজ করেন এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। কাজের অনিয়মের বিষয়ে তৎকালীন আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মো: আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে অভিযোগ দিলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি এমন অভিযোগও স্থানীয়দের। দায়সারা কাজ করে ঠিকাদার সগির সমুদয় টাকা তুলে নেন। ২০২৪ সালের শেষের দিকে কাজ শেষ হয়। সড়ক নির্মাণের ছয় মাসের মাথায় সড়ক খানাখন্দে ভরে যায়। ১০ মিটার অন্তর অন্তর সড়কে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়। ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমতলী-তালতলী উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সড়কটি দিয়ে গত দুই বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্তত দুই লক্ষাধিক মানুষ ও কয়েক শত যানবাহন চলাচল করছে।

সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের শুধুই খানাখন্দ আর খানাখন্দ। ১০ মিটার অন্তর অন্তর বড় বড় গর্ত। সড়কে খানাখন্দ থাকায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। গর্তে যানবাহন আটকে গেলে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

মোটরসাইকেলচালক মো: শাহ আলম তালুকদার ও রুবেল মিয়া বলেন, সড়ক নির্মাণের অল্প দিনের মধ্যেই সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। গত দুই বছরে জীবন বাজি রেখে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তারা আরো বলেন, এ সড়ক নয়, যেন মিনি পুকুর।

তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: হেলাল উদ্দিন বলেন, এমন সড়ক বাংলাদেশে আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই। এমন খানাখন্দ সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসছে। কখন কী হয়ে যায় আল্লাহই জানেন! দ্রুত এ সড়ক নির্মাণের দাবি তার।

আড়পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক ও তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া, কল্পনা আক্তার, আবু ছালেহ ও শাহ নেওয়াজ বলেন, এ সড়ক নয়, যেন মরণফাঁদ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। দ্রুত সড়ক নির্মাণের দাবি তাদের।

তারিকাটা গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও শহীদুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কার্যাদেশ অনুসারে কাজ করেননি। ফলে নির্মাণের ছয় মাসের মাথায় সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। খানাখন্দ সড়ক দিয়েই গত দুই বছর চলাচল করতে হচ্ছে। কাজের অনিয়মের সাথে জড়িত ঠিকাদার মো: সগির হোসেন ও স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগের লোকজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তাদের।

ঠিকাদার মো: সগির হোসেন কাজে অনিয়মের কথা অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় সড়ক ভেঙে গেছে। এতে আমার কী করার আছে?

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো: ইদ্রিস আলী বলেন, সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে তা ঠিক কিন্তু ওই সড়ক নির্মাণের ডিপিপি পাস হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।

বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসান খাঁন বলেন, যখন ওই সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে তখন আমি বরগুনার দায়িত্বে ছিলাম না। তাই সড়ক নির্মাণের অনিয়মের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ অর্থবলেই ওই সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।