বরগুনার তালতলীতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাককে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
এ অভিযোগ করেছেন মোস্তাকের বড় ভাই ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষরা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী এলাকা থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করেন স্থানীয় জনতা। পরে তাদের তালতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—জিহাদ খান (৩৫), হৃদয় মোল্লা (২৫), অনিক মজুমদার (২৫), লিমন সিকদার (২৮) ও জামাল মল্লিক (২৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল এবং আওয়ামী লীগের উত্থান ঠেকাতে তালতলীতে বিএনপির দুটি পক্ষ পৃথক কর্মসূচির উদ্যোগ নেয়। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক।
একই দিনে দুই পক্ষ কর্মসূচি ঘোষণা করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর কিছুক্ষণ পর গাবতলী এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা পিস্তল ও গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জিহাদ খানের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাঠালতলী গ্রামে। হৃদয় মোল্লা ও জামাল মল্লিকের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার আমড়াঝুড়ি গ্রামে। আর লিমন সিকদার ও অনিক মজুমদারের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নিশানবাড়িয়া গ্রামে।
সন্ত্রাসীরা আটকের পর মোস্তাকের অনুসারীরা দাবি করেন, তাকে হত্যার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এসব ব্যক্তিকে ভাড়া করেছে। মোস্তাকপন্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘মোস্তাককে হত্যার জন্য তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সন্ত্রাসী ভাড়া করেছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, কারা তাদের ভাড়া করেছে, তা তদন্ত করে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হোক।’
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ অভিযোগ করে বলেন, ‘মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকসহ আমাদের হত্যার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা কন্ট্রাক্ট কিলার ভাড়া করেছে। ওই কিলাররা জনগণের হাতে ধরা পড়েছে। এর পেছনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লাসহ কিছু নেতাকর্মী কলকাঠি নাড়ছেন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। মোস্তাকের বিরুদ্ধে আমার যদি রাগ বা ক্ষোভ থাকত, তাহলে তার বিরুদ্ধে দলীয় যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে সুপারিশ করতাম না।’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, ‘রিয়াজের ওই ভিডিওটিও আমি ফেসবুকে দেখেছি। এটা একটি হাস্যকর বিষয়। পুলিশের কাছে ওই পাঁচজন আটক আছেন। তদন্ত করলেই মূল ঘটনা বের হয়ে আসবে। আমিও চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মূল ঘটনা বের হয়ে আসুক।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন রয়েছে।’
এ বিষয়ে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির দুটি গ্রুপের আলাদা কর্মসূচি ছিল। কর্মসূচি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় দুই গ্রুপের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। স্থানীয় জনতা একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করেছে। তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। কেন এবং কী উদ্দেশ্যে তারা তালতলীতে এসেছে, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।’



