ফতুল্লায় হোসিয়ারি কারখানার মালিক হত্যা, চাকরিচ্যুত নারী কর্মীসহ আটক ২

তার ভাইকে গলায় তার পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার সাবেক নারী কর্মী মিম ও তার সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে।

Location :

Narayanganj
আটক চাকুরিচ্যুত নারী শ্রমিক মিম ও শ্রমিক রানা
আটক চাকুরিচ্যুত নারী শ্রমিক মিম ও শ্রমিক রানা |নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও ফতুল্লা সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক হোসিয়ারি কারখানার মালিককে হত্যার অভিযোগে চাকরিচ্যুত নারী কর্মীসহ দু’জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় তাদের আটক করে পুলিশ।

আটকরা হলেন— কারখানাটির চাকুরিচ্যুত নারী শ্রমিক মিম (২০) ও অন্য শ্রমিক রানা (২১)।

নিহতের নাম হারুন খালাসী (৪২)। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি রাব্বানী নগর এলাকার মরহুম আব্দুল কাদের মিয়ার ছেলে।

এর আগে, মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফতুল্লার রিয়া গোপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় সায়েম আল আরাফাতের বাড়ির নিচতলায় অবস্থিত ‘হিমা হোসিয়ারি অ্যান্ড গার্মেন্টস’ নামে কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ৫০ হাজার টাকা চুরির দায়ে মিমকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছিল। সেই ক্ষোভের পাশাপাশি বেতনের টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে এই হত্যা করা হয়। হত্যাকারীরা প্রথমে কৌশলে হারুন খালাসীকে ১০টি ঘুমের ট্যাবলেট সেবন করায়। এতে করে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাপড়ের রশি গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।

নিহতের ছোট ভাই সেলিম খালাসী অভিযোগ করে জানান, তার ভাইকে গলায় তার পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার সাবেক নারী কর্মী মিম ও তার সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে ধামাচাপা দিতে প্রথমে লাশ একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নেয়া হয়, পরে সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার এক শ্রমিক জানান, ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের বেতন দেয়ার কথা ছিল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায়। সে অনুযায়ী প্রায় ২০ জন শ্রমিক সারাদিন কাজ শেষে কারখানায় অপেক্ষা করছিলেন। নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ পর হারুন খালাসী এসে শ্রমিকদের অপেক্ষা করতে বলে নিজের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে আমরা তার পরিবারকে খবর দেই। তারা পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে চেয়ারে হেলানো হারুনের নিথর দেহ উদ্ধার করে।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় মিম নামে কারখানার সাবেক এক নারী শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক বুধবার সন্ধ্যায় রানাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।