নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মিসকান সরদার নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত মিসকান সরদার ওই গ্রামের মৃত লোকমান সরদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে ওমর মুন্সি ও আজমল মুন্সী সমর্থিত লোকজনদের সাথে একই গ্রামের হিরাঙ্গির মোল্যা ও শাহিদুল মেম্বারের পক্ষের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
গত সোমবার রাতে চোর সন্দেহে তুহিন নামের এক ব্যক্তিকে মোল্লা পক্ষের লোকজন আটক করেন। আটক তুহিন মুন্সি পক্ষের লোক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।
এর জেরে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা তাদের উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গুরুতর আহত মিসকান সরদার, আজগর সরদার ও সালাম মুন্সিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। পরে তাদের ঢাকায় নেয়ার পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদারীপুর জেলার পাঁচ্চর এলাকায় পৌঁছালে মিসকান সরদারের মৃত্যু হয়।
মিসকান সরদারের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনেরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সংঘর্ষের পর দুই পক্ষের লোকজন পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে একে অপরের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



