মাওলানা আব্দুল হালিম

কোরআন থেকে বিচ্যুত হওয়ায় মায়ের মৃত্যুর পরে লাশ পুলিশকে নিতে হয়

‘ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে তা’লীমুল কোরআনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া অনেক বড় নিয়ামত। আর কোরআনের কাজের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের পথে যুক্ত হতে পারা আল্লাহর নিয়ামতের পরিপূর্ণতা। কারণ ইসলামী আন্দোলন কোরআনকেন্দ্রিক।’

ইলিয়াছ পাটওয়ারী, চাঁদপুর

Location :

Chandpur
তা’লীমুল কোরআন ফাউন্ডেশন চাঁদপুর জেলা শাখা আয়োজিত সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল হালিম
তা’লীমুল কোরআন ফাউন্ডেশন চাঁদপুর জেলা শাখা আয়োজিত সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল হালিম |নয়া দিগন্ত

তা’লীমুল কোরআন ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হযরত মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে তা’লীমুল কোরআনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া অনেক বড় নিয়ামত। আর কোরআনের কাজের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের পথে যুক্ত হতে পারা আল্লাহর নিয়ামতের পরিপূর্ণতা। কারণ ইসলামী আন্দোলন কোরআনকেন্দ্রিক। কোরআনের দায়িত্ব শুধু মাওলানা-মৌলভীদের কাজ নয়, এটা আল্লাহর সকল শ্রেষ্ঠ বান্দাদের কাজ। এই দায়িত্বকে হালকা ভাবার অবকাশ নেই, এটি অনেক বড় দায়িত্ব। যিনি নিজেকে কোরআনের সাথে সম্পৃক্ত রাখেন, তার তেলাওয়াত শোনার জন্য ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়। আপনার যদি কোরআনের সাথে সেই সম্পর্ক তৈরি হয়, তাহলে আপনার ঘরেও সেই রহমত আসবে।’

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে তা’লীমুল কোরআন ফাউন্ডেশন জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মুয়াল্লিম ও মুয়াল্লিমাহ সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আজ কোরআনের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে মায়ের মৃত্যুর ৭/৮ দিন পরে মায়ের লাশ পুলিশকে এসে নিতে হয়। আজ যারা কোরআনের সাথে থেকে ইসলামী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে চান, তাদের আল্লাহর এই বড় নিয়ামত ও মহান কাজের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আল্লাহ করে দিয়েছেন। তা’লীমুল কোরআনের কাজের ‍মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহ তায়ালার কোরআনকে হেদায়েতের মূল গাইড হিসেবে গ্রহণ করা। তাই কোরআনের জ্ঞান ছাড়া কেবল আমল করলে হবে না। কোরআনের মর্ম বুঝে আমল করলে সেই আমল আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যায়। আর এই কোরআন শিখানোর জন্য মক্তব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

প্রধান অতিথি আরো বলেন, ‘আজ মক্তব শিক্ষাকে উপেক্ষা করে যখন ভিন্ন শিক্ষা দিয়ে শিশুদের গড়ে তোলা হচ্ছে, সেই শিশুরা আজ সচিব কিংবা শিক্ষক হয়েও মায়ের মৃত্যুর খবর রাখে না। মক্তবের শিক্ষকরা সম্মানের মাথার মুকুট, সমাজে এটি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ১৯৯৮ সালে তা’লীমুল কোরআন ফাউন্ডেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছিলেনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তার নেতৃত্বে ৯ জন সদস্য নিয়ে তখন এর কার্যক্রম শুরু হয়। তারা বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশে ইসলামের অনুশাসন কায়েমের মাধ্যমে মানুষকে একটি ন্যায়-ইনসাফের সমাজ উপহার দিতে হলে সর্বস্তরের মানুষের কাছে কোরআনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তা’লীমুল কোরআন ফাউন্ডেশন চাঁদপুর জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল ও মাওলানা আবুল হোসাইন। তা’লীমুল কোরআন ফাউন্ডেশন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মীর হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা অলি উল্যাহর পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম প্রধান ও হারুন আর রশিদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ হোসেন বিএসসি, অধ্যাপক রুহুল আমিন, অধ্যাপক শাহ আলম, মাওলানা ইউনুস হেলাল এবং মাওলানা আবুল হোসেন।