বিষ দিয়ে ২৯ পাখি হত্যা : বাবার পক্ষে ছেলের মুচলেকা ও জরিমানা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিষ প্রয়োগ করে ২৯টি বন্য পাখি হত্যার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হলেও ঘটনাটি সেখানেই শেষ হয়নি।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

Location :

Damurhuda
বিষ দিয়ে ২৯ পাখি হত্যা : বাবার পক্ষে ছেলের মুচলেকা ও জরিমানা
বিষ দিয়ে ২৯ পাখি হত্যা : বাবার পক্ষে ছেলের মুচলেকা ও জরিমানা |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বিষ প্রয়োগ করে ২৯টি বন্য পাখি হত্যার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হলেও ঘটনাটি সেখানেই শেষ হয়নি।

অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে না থাকায় তার ছেলে বাবার পক্ষে উপস্থিত হয়ে মুচলেকা দেন। পরে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ওই ঘটনার বিষয়ে নিয়মিত মামলা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায়। মৃত ২৯টি পাখির মধ্যে ২৪টি তিলা ঘুঘু, তিনটি চড়ুই ও দুটি কবুতর রয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট রাতে উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ফসলি জমিতে পাখি শিকারের উদ্দেশে বিষমিশ্রিত বীজ ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব বিষমিশ্রিত বীজ খেয়ে পাখিগুলো মারা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত পাখি ও বিষ প্রয়োগে ব্যবহৃত উপকরণ জব্দ করেন। পরে ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহিন আলমের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় অভিযুক্ত আতিয়ার রহমানকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে তার ছেলে মো: রাজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তার বাবার পক্ষে মুচলেকা দেন। বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, তিনি ঘটনার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তার বাবা ঘটনাটির সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।

অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তার পরিবর্তে ছেলে রাজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে পরবর্তীতে বন বিভাগ জানায়, ঘটনাটির সাথে জড়িত অনুপস্থিত অভিযুক্ত আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া নেয়া হয়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী বলেন, ‘ঘটনাস্থলে ২৯টি মৃত পাখি পাওয়া যায় এবং বিষ প্রয়োগের আলামত জব্দ করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টে একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অপর অভিযুক্ত ঘটনাস্থলে না থাকায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া নেয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, বন বিভাগের পক্ষে তিনি নিজেই মামলার বাদী। মামলার কাগজপত্র বর্তমানে রেঞ্জ অফিসে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তার মাধ্যমে বিচারিক আদালতে পাঠানো হবে।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ‘বন বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

বন বিভাগের হিসাবে, নিহত পাখিগুলোর আর্থিক মূল্য ৫ হাজার ২১০ টাকা। তবে এসব পাখি হত্যার কারণে পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ২ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, বন্য পাখি নিধন ও বিষ প্রয়োগের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।