ময়মনসিংহে জ্বালানি সঙ্কটে ‌বিপাকে জনজীবন

সরবরাহ ঘাটতির কারণে জেলার অনেক ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কর্মজীবী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
যানবাহনের দীর্ঘ লাইন
যানবাহনের দীর্ঘ লাইন |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহ অঞ্চলে জ্বালানি তেলের সঙ্কট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকা‌লে নগরীর কাচারী রো‌ডের টাউন হল এলাকার অটো মোবাইল ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন। অনেককে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধিকাংশ পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং প্রাইভেটকারে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকার তেল দেয়া হচ্ছে।

এদিকে, সরবরাহ ঘাটতির কারণে জেলার অনেক ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কর্মজীবী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ জেলায় নিবন্ধিত ফিলিং স্টেশনের সংখ্যা প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি। এর মধ্যে নগরী ও আশপাশে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পাম্প নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। তবে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলে দৈনিক প্রায় ২ দশকিম ৫ থেকে তিন লাখ লিটার পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ কমে প্রায় এক থেকে ১ দশকিম ৫ লাখ লিটারে নেমে এসেছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে পাম্পগুলোতে তেল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সাইফুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সাময়িক এই সঙ্কট মূলত সরবরাহ ব্যবস্থার কিছু সমস্যার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেউ যাতে মজুদদারি বা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে না পারে, সে জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।’

জেলা প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, খুব শিগগিরই জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পাম্পগুলোর চাপ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি সঙ্কটের কারণে পরিবহন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনেক গণপরিবহন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কম ট্রিপ দিচ্ছে, ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।