যেন নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছে সাড়ি সাড়ি তাল গাছ। সাথে আছে বিছানো সবুজ গাছ আর সু-বিশাল মাঠ। চোখের দেখাতে যে-কেউরই মনে হবে এ যেনো সাজানো কোন রিসোর্ট। এখানে পা রাখতেই কানে বাজবে শোঁ শোঁ শব্দ। মূলত বাতাসে তালপাতার নাচনে এমন শব্দ তৈরি হয়। মাঝেমধ্যে গর্জন করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে তালগাছগুলো।
সেই গর্জনের সাথে পাখির কলকাকলি মিশে অন্যরকম এক আবহ সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, সকাল বেলায় পূর্বগগনে খোলা মাঠের বুক চিরে জেগে ওঠা রক্তলাল সূর্য, বেলা শেষে পশ্চিম আকাশে তার হেলে পড়ার দৃশ্য উপভোগ করারও অতুলনীয় স্থান ‘তালতলা’।
বলছিলাম সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী বাংলাবাজার ইউনিয়নের তালতলা এলাকাটির কথা। তালের গাছকে ঘিরে পরিচিত এই তালতলাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে।
প্রতিদিন শত-শত পর্যটক ভিড় করছেন এখানে। যত্নআত্তি করলে সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এই তালতলা।
এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি তালগাছ। এই গাছের নামানুসারেই এলাকার নামকরণ হয়েছে। পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ রয়েছে নানা সংকট। তবু সেই সংকট উপেক্ষা করেই প্রকৃতির নয়নাভিরাম তালতলা পর্যটকের মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা পল্লি চিকিৎসক হাবিব রোশান বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এখানে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হতে পারে। আর এ থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হতে পারে।’
তিনি জানান, বাংলাবাজার এলাকা উপজেলার সবচেয়ে পরিচিত এবং মানুষের পছন্দনীয় ও প্রয়োজীয় জায়গা। এই এলাকার কৃষকদের ফলানো ফসল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রফতানি করা হয়ে থাকে। এছাড়াও সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট বাঁশতলা ও বাংলাবাজার ইউনিয়নের সীমান্তে অবস্থিত। যার কারনে বাংলাবাজারে প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো মানুষের সমাগম হয়। সেই সুবাদে যদি তালতলাকে ঢেলে সাজানো যায় তাহলে পর্যটন শিল্প গড়ার পাশাপাশি এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান ও তৈরি হবে।
শুক্রবার সকালে বেড়াতে আসা সরকারি চাকরিজীবী ছামির আলী ও জুয়েল আহমদ বলেন, সুযোগ হলেই বন্ধু- বান্ধব কি'বা পরিবার- পরিজন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৫ নম্বর সেক্টর বাঁশতলা পর্যটন কেন্দ্রে বেড়াতে চলে যাই। তবে এবার এসেছি নতুন জায়গা তালতলা। এই স্পটি অনেক সুন্দর। এখানে আসলে আল্লাহর নিদর্শনগুলোর কল্পনা করা যায়। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি উদ্যোগ নিয়ে তালতলাকে সাজাতে পারেন তাহলে ভ্রমন পিপাসু ও প্রকৃতি প্রেমিতের কাছে টানবে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ জানান, তালতলা এলাকাটি নতুন পরিচিতি লাভ করেছে। আমরা সেখানে যাব।



