মহিলা কলেজের অফিস সহকারী ইয়াবা সেবনকালে গণধোলাইয়ের শিকার

মহিলা কলেজের এক অফিস সহকারী ইয়াবা সেবনকালে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। এ ঘটনার দেড় মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Location :

Madaripur
মহিলা কলেজের অফিস সহকারী ইয়াবা সেবনকালে গণধোলাইয়ের শিকার
মহিলা কলেজের অফিস সহকারী ইয়াবা সেবনকালে গণধোলাইয়ের শিকার |নয়া দিগন্ত

মহিলা কলেজের এক অফিস সহকারী ইয়াবা সেবনকালে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। এ ঘটনার দেড় মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাদারীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাকাই বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আহত মাইনুর হাসান মাসুম মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ডাসার গ্রামের সৈয়দালী সরদারের ছেলে। বর্তমানে তিনি খুলনা দাকোপ উপজেলার সরকারি লাউডোবা কৈলাশগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে কর্মরত।

এর আগে তিনি মাদারীপুরের ডাসার সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়ে অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বিষয়টি জানতে অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাইনুর হাসান মাসুম নিজ বাড়ির সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়ে নিয়মিত ইয়াবা সেবন করে আসছেন। বুধবার দুপুরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাকাই বাজার সংলগ্ন খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাশে ইয়াবা কিনে সেবন করছিলেন মাসুম। বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে দুই পিস ইয়াবা পান স্থানীয়রা। পরে তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়। এ সময় বেশ আহত হন মহিলা কলেজের ওই অফিস সহকারী। পরে মাসুমকে ছেড়ে দেন উত্তেজিত জনতা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়।

গৌরনদী উপজেলার বাকাই বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘প্রায়ই মাসুম মোটরসাইকেলযোগে ইয়াবা কিনতে ও সেবন করতে আসেন বাকাই বাজারের পাশে। তাকে এর আগেও নিষেধ করা হয়। কিন্তু হাতেনাতে ধরা পড়লে গণধোলাইয়ের শিকার হন তিনি।’

বরিশালের গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিক হাসান রাসেল বলেন, ‘ইয়াবা সেবনকারীকে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে, এমনকি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।’

মাদারীপুরের ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনাস্থল ডাসার থানার সীমান্তবর্তী এলাকায়। তবে ডাসার থানার অধীনে নয়। ঘটনার পর মাইনুর হাসান মাসুমের মোবাইল ও মোটরসাইকেল ডাসার থানায় পাঠিয়ে দেয় অজ্ঞাতরা। এ ব্যাপারে ডাসার থানা পুলিশের কিছুই করার নেই।’