বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে পাকাধান, মণ প্রতি দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা

কেবল বিক্রির ধানই নয়; বছরের খোরাকের জন্য গোলায় তোলা ধানও শুকাতে পারছেন না তারা। এখনো বৃষ্টি কমেনি। শুকানোর জায়গা নেই, রোদ নেই। খাওয়ার ধান পচে যাচ্ছে।

Location :

Netrokona
তলিয়ে যাওয়া পাকাধান
তলিয়ে যাওয়া পাকাধান |নয়া দিগন্ত

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) সংবাদদাতা
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে কৃষি নির্ভর চাষিরা এখন চরম দুর্দশার মুখে। টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় পাকাধান তলিয়ে যাচ্ছে জমির পানিতে। অপরদিকে কাঁচাধান বাতাসে নুয়ে পড়ায় আশানুরূপ ফলনও হাতে আসছে না। ইতোমধ্যে কিছু ধান কেটেছেন কৃষকরা, কিন্তু বাজারে নিয়ে গেলে দাম পাচ্ছেন মণ প্রতি মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। যা উৎপাদন খরচের অর্ধেকও নয়।

স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার ধান নিয়ে আশা ছিল। কিন্তু সে ধান পানিতে ডুবে গেছে। যেটুকু কাটতে পেরেছি, শুকানোর সুযোগ নেই। বৃষ্টির জন্য ধান ভিজে গেছে। কেউ কিনতে চায় না। দাম দিতে চায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ। অথচ সার, বীজ, শ্রম খরচের পর মণ প্রতি কমপক্ষে ১২০০ টাকা প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘কেবল বিক্রির ধানই নয়; বছরের খোরাকের জন্য গোলায় তোলা ধানও শুকাতে পারছি না। এখনো বৃষ্টি কমেনি। শুকানোর জায়গা নেই, রোদ নেই। খাওয়ার ধান পচে যাচ্ছে। সংসারে চারটি মুখ, কীভাবে চলবো?’

এ দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় রাতে ধান পাহারা বা শুকানোর কাজেও ভোগান্তি বেড়েছে। একটি হেডলাইট যদি সরকারিভাবে দেয়া যায়, তবে রাতে কাজ করে কিছুটা হলেও ধান শুকানো ও রক্ষা করা যেত—এমনটাই প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্ষতির পরিমাণ জরিপ চলছে। হাওর থেকে ধান সরিয়ে আনার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

এ পরিস্থিতিতে জরুরিভাবে বীজ ও খোরাকের ধান সংরক্ষণে আর্দ্রতানির্ধারক মেশিন, ন্যূনতম সহায়তা ও মূল্যের দাবি জানিয়েছেন চাষিদের। পাশাপাশি বিদ্যুতবিহীন এলাকায় সোলার হেডলাইট বা ব্যাটারিচালিত লণ্ঠন দেয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।