ডুয়েট ভিসি

জুলাইয়ের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে

জুলাইয়ের চেতনা পথচলার চিরন্তন আলোকবর্তিকা হিসেবে ধারণ করে সব বিভেদ ভুলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর
ডুয়েটে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভিসি  ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল
ডুয়েটে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভিসি ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল |নয়া দিগন্ত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেছেন, ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সংঘটিত ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে এ অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ডুয়েটে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভিসি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা পথচলার চিরন্তন আলোকবর্তিকা হিসেবে ধারণ করে সব বিভেদ ভুলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে।

তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী মানুষের অভূতপূর্ব জাগরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, শাকিল পারভেজসহ নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সাথে আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনই যথেষ্ট নয়; সততা, শৃঙ্খলা, মানবতা, সহনশীলতা ও দেশপ্রেমকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাতীয় অগ্রগতির কাজে লাগাতে হবে। ডুয়েটকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে সকালে ভিসি বেলুন উড়িয়ে, বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে শহীদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. রুমা এবং পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস। অনুষ্ঠানে ডুয়েটের পাঁচজন জুলাই যোদ্ধা ২০২৪ সালের আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন।

আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের আয়োজনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভিসি।

দিবসটি উপলক্ষে দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনা, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং প্রীতি ভলিবল প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।