রংপুরে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের দায়ে গ্রেফতার ৭

নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতার কাছ থেকে গরু প্রতি সর্বোচ্চ ৬০০ ও ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য পশুর জন্য সর্বোচ্চ ২২০ টাকা নেয়ার নিয়ম থাকলেও হাটগুলোতে প্রকাশ্যে নেয়া হচ্ছে ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
গ্রেফতারদের একাংশ
গ্রেফতারদের একাংশ |নয়া দিগন্ত

উত্তরের কোরবানির গরুর হাটগুলোতে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের খবর নয়া দিগন্তে প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে রংপুরে সাতজনকে গ্রেফতার ও দুই লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে নগরীর লালবাগ হাট থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেফতার সাতজন হলেন— নগরীর শান্তিবাগ এলাকার মরহুম আনু শেখের ছেলে মো: মজিবর রহমান (৬৫), সুমন মিয়ার ছেলে হাসান বাবু (১৭), সাইদুর রহমানের ছেলে ফাহিম আহমেদ সিফা (১৮), আক্কেলপুর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে মো: মাসুদ রানা (২৩), নগরীর পরশুরাম বাহাদুর সিংয়ের আবুল হোসেনের ছেলে সাইদুর রহমান সিয়াদ (৫০), কাউনিয়ার জিগাবাগির মোস্তাফিজার রহমানের ছেলে ফিরোজ আহমেদ (২৭) ও গঙ্গাচড়ার লুৎফর রহমানের ছেলে মো: দুলু মিয়া (৫৭)। তারা সবাই ইজারাদারের নিয়োগকৃত হাসিল আদায়কারী।

মহানগর পুলিশের ডিসি (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, মহানগর পুলিশ কমিশনারের প্ল্যানিংয়ে হাটগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়। আমরা লালবাগ হাটে গিয়ে দেখতে পাই, গ্রেফতাররা ক্রেতার কাছ থেকে ৮০০ ও বিক্রেতার কাছ ৩০০ টাকা করে জোড়পূর্বক অতিরিক্ত হাসিল আদায় করছিল। বিষয়টি আমরা হাতেনাতে ধরে ফেলি এবং তাদের আটক করি। পরে মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

এদিকে রংপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, অতিরিক্ত হাসিল আদায় করার কারণে গত দুই দিনে জেলার প্রায় ২১টি হাটে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব হাটকে বিভিন্ন পরিমানে দুই লাখ ৪৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এছাড়া তাদের সাবধান করা হয়েছে। আমরা নজরদারি অব্যাহত রেখেছি। ইউএনও ও এসিল্যান্ডরা এই অভিযান পরিচালনা করেছেন। এতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ।

ডিসি অফিস থেকে পাওয়া তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি হাটে ৬৪ হাজার, গজঘণ্ট হাটে ১০ হাজার, মিঠাপুকুরের বৈরাতি হাটে ৫০ হাজার, জায়গীর হাটে ৩০ হাজার, সদরের পানবাজার হাটে তিন হাজার, নিশবেতগঞ্জ হাটে তিন হাজার, তারাগঞ্জ হাটে আট হাজার, পীরগঞ্জের জামতলা হাটে ৩০ হাজার, চতরা হাটে ১৪ হাজার, কাউনিয়া হাটে সাত হাজার ও বদরগঞ্জ হাটে ছয় হাজারসহ ২১টি হাটে মোট দুই লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের সরকারি পেরিফেরিভুক্ত সাড়ে পাঁচ শতাধিক গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়ার হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে গড়ে গরু প্রতি ৭০০ টাকারও বেশি হাসিল আদায় করছে ইজারাদার সিন্ডিকেট। নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতার কাছ থেকে গরু প্রতি সর্বোচ্চ ৬০০ ও ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য পশুর জন্য সর্বোচ্চ ২২০ টাকা নেয়ার নিয়ম থাকলেও হাটগুলোতে প্রকাশ্যে নেয়া হচ্ছে ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত।

অন্যদিকে বিক্রেতার কাছ থেকে টাকা নেয়ার কোনো আইন না থাকলেও নেয়া হচ্ছে ৩০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু কোনো রশিদ দেয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে বুধবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে নয়া দিগন্ত। এরপর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানান, হাট-বাজারগুলোতে শক্ত মনিটরিং করা হচ্ছে। যেখানেই অভিযোগ প্রমাণ হচ্ছে সেখানেই জরিমানা করা হচ্ছে।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক শাহিনুর রহমান জানান, এবার উত্তরাঞ্চলে ৩৯ লাখ পশু বিক্রির টার্গেট নিয়ে চলছে বেচাবিক্রি। গরু প্রতি ৬০০ টাকা করে অতিরিক্ত নিলেও ইজারাদারদের পকেটে ঢুকবে ২৩৪ কোটি টাকা। প্রশাসনের সাথে বিশেষ সখ্যতার মাধ্যমেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের পকেট মারছে ইজারাদার সিন্ডিকেট। এ বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ জরুরি।