ইন্টারমিডিয়েটের ২ বছরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন : এস এম ফরহাদ

এস এম ফরহাদ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। এই স্বপ্নই শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ধরনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে এবং বিপথে যাওয়া থেকে বাধা দেবে।’

মো: নূরুল কবির, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

Location :

Anwara
অতিথিরাসহ সংবর্ধনা প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা
অতিথিরাসহ সংবর্ধনা প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেছেন, ‘এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এটিকে চূড়ান্ত সাফল্য মনে করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের সামনে আরো কঠিন পথ রয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারমিডিয়েটের দুই বছরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আনোয়ারা উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এস এম ফরহাদ বলেন, ‘এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর অনেকের মধ্যে আত্মতুষ্টি চলে আসে। মনে হয়, অনেক বড় কিছু অর্জন করে ফেলেছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সামনের যাত্রা আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং। ক্লাস টেনের এ প্লাস কিছুই না, এর পরের ইন্টারমিডিয়েট হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়েই অনেকটা নির্ধারিত হয় ভবিষ্যতে একজন শিক্ষার্থী কোথায় যাবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে এবার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে এক লাখের বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তাই জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য কঠোর প্রস্তুতি নিতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। এই স্বপ্নই শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ধরনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে এবং বিপথে যাওয়া থেকে বাধা দেবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের সামনে অনেক ধরনের ডিস্ট্রাকশন রয়েছে। ফেসবুক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করার সুযোগ অনেক বেশি। তবে ইন্টারমিডিয়েটের এই দুই বছর অন্য সবকিছুর চেয়ে পড়াশোনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাথমিক লক্ষ্য থাকতে হবে কিভাবে ইন্টারমিডিয়েটের ফলাফল ভালো করা যায়।’

পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখার বিষয়ে ডাকসুর জিএস বলেন, ‘পরিকল্পনা ছাড়া পড়াশোনা করা উচিত নয়। কতক্ষণ পড়বে, কোন অধ্যায় শেষ করবে ও কখন বিরতি নেবে-আগেই পরিকল্পনা করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়কে পড়াশোনার জন্য নির্ধারণ করে ওই সময়ে অন্য কোনো কাজে মনোযোগ না দেয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটানা দীর্ঘ সময় পড়ার পরিবর্তে সময় ভাগ করে পড়া যেতে পারে। ৩০ কিংবা ৫০ মিনিট পড়ার পর অল্প সময় বিরতি নিয়ে আবার পড়াশোনায় ফিরতে হবে।’

পড়ার সময় কোনো অপ্রয়োজনীয় চিন্তা মাথায় এলে তা কাগজে লিখে রেখে পড়া শেষ করার পর সেগুলোর দিকে মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘অনলাইনে এখন পড়াশোনার অনেক সুযোগ রয়েছে। ভালো শিক্ষক ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট অনলাইনে পাওয়া যায়। তবে পড়াশোনার ভিডিও দেখতে গিয়ে যেন অন্য বিষয়ে চলে যাওয়া না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রযুক্তিকে শিক্ষার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, সময় নষ্টের মাধ্যম হিসেবে নয়।’

এস এম ফরহাদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের থিংক গ্লোবালি, অ্যাক্ট লোকালি নীতিতে এগিয়ে যেতে হবে। নিজের জায়গা থেকে কাজ করতে হবে, কিন্তু চিন্তা হতে হবে বৈশ্বিক। যে স্কুল, কলেজ বা মাদরাসায়ই পড়াশোনা করুক না কেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকা উচিত একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখার।’

তিনি বলেন, ‘পারিবারিক আর্থিক সঙ্কট কিংবা প্রতিকূল পরিবেশ সফলতার পথে চূড়ান্ত বাধা নয়। সঙ্কটের মধ্য থেকেই অনেক বড় মানুষ তৈরি হয়েছেন। তাই কারও বাবা কৃষক, রিকশাচালক কিংবা পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল-এসবকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিমের সভাপতি ফরমানুর রহমান জাহিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আনোয়ারা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি আবুল হাসান ও ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিমের অফিস সম্পাদক সারতাজ আরেফিন ফাহিম।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির আনোয়ারা উপজেলার তত্ত্বাবধায়ক শোয়াইবুল ইসলাম মোরশেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিবুল হাসান।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আনোয়ারা উপজেলা সভাপতি হাফেজ সাইফুদ্দিন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি রিয়াদুল এরশাদ।