ময়মনসিংহে ২৪ ঘণ্টায় হামে এক শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৬৭ জন

ময়মনসিংহে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ৬৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
ময়মনসিংহের ম্যাপ
ময়মনসিংহের ম্যাপ |ফাইল ছবি

ময়মনসিংহে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ৬৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জেলায় সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ না থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নয়জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ছয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তবে এ সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে ১৮ জন শিশু হাসপাতাল ছেড়েছে, যা কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ৬৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে মোট ১৮১ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে ১১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

হামের চিকিৎসায় গঠিত মেডিক‌্যাল দলের সহকারী রেজিস্ট্রার মো: মাজহারুল আমিন বলেন, ‘হামের রোগীর সংখ্যা কিছুটা ওঠা-নামা করছে, তবে এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা পায়নি বা বয়স কম, তাদের ঝুঁকি বেশি।’

তিনি আরো বলেন, ‘অভিভাবকদের শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করতে হবে এবং জ্বর, র‍্যাশ বা কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা জরুরি।’

ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘আক্রান্ত শিশুদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে বিশেষ টিম কাজ করছে।’

এদিকে ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: ফয়সাল আহমেদ জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের জন্য বহির্বিভাগে ‘ফিভার কর্নার’ এবং আন্তঃবিভাগে নির্দিষ্ট শয্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বিশেষায়িত মেডিক‌্যাল টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে এবং প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দিচ্ছে।