বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোলাকিয়ার ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লি

শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর পাঁচ মিনিট আগে তিনটি, তিন মিনিট আগে দুটি এবং এক মিনিট আগে একটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পরে ইমামের তাকবিরের মাধ্যমে শুরু হয় ঈদের নামাজ।

মো: আল আমিন, কিশোরগঞ্জ

Location :

Kishoreganj
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদ জামাতে অংশ নেয় লাখো মুসল্লি
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদ জামাতে অংশ নেয় লাখো মুসল্লি |নয়া দিগন্ত

মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির শঙ্কা উপেক্ষা করে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এ জামাতে লাখো মুসল্লি অংশ নেন।

সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ কিছুটা সরে গেলে দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহে আসতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। জামাত শুরুর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় বৃষ্টি। তবে প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করেই মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন।

শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর পাঁচ মিনিট আগে তিনটি, তিন মিনিট আগে দুটি এবং এক মিনিট আগে একটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পরে ইমামের তাকবিরের মাধ্যমে শুরু হয় ঈদের নামাজ।

এবারের জামাতে ইমামতি করেন মুফতি মাওলানা আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি বিশ্বে যুদ্ধ বন্ধ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তির জন্য দোয়া করা হয়।

ঈদের জামাতে অংশ নেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, এবার ঈদুল আজহার জামাতে আগের বছরের তুলনায় বেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। তিনি জানান, ঈদুল ফিতরের তুলনায় সাধারণত ঈদুল আজহায় মুসল্লি কম হলেও এবার ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন পর মুসল্লিদের পছন্দের ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহকে পুনর্বহাল করায় শোলাকিয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা এবার জামাতে অংশ নিতে কিশোরগঞ্জে আসেন।

ঐতিহাসিক এ ঈদগাহে নামাজ আদায়ের জন্য দুই দিন আগ থেকেই মুসল্লিরা কিশোরগঞ্জে আসতে শুরু করেন। ঈদের দিন ভোর থেকে শহরের সড়কগুলো মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত মুসল্লিরা ছাতা মাথায় ঈদগাহের দিকে ছুটে যান।

নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় অনেক নারী আশপাশের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে মোনাজাতে অংশ নেন।

প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ হিসেবে পরিচিত। নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এ ঈদগাহের বর্তমান আয়তন প্রায় সাত একর। মাঠে ২৬৫টি কাতারে একসঙ্গে লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে প্রতিবছর মাঠ উপচে আশপাশের সড়ক, নদীতীর ও বাড়ির উঠানেও মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন।

ঈদগাহটির নিরাপত্তায় এবারও নেওয়া হয় ব্যাপক ব্যবস্থা। বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। কয়েক ধাপে মুসল্লিদের তল্লাশি করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী ও এক হামলাকারী নিহত হন। এরপর থেকে প্রতি বছরই শোলাকিয়ায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।