নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ডাকাত আখ্যা দিয়ে মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদকে (৪৫)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা মামলা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে সড়কে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজান উপজেলার কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার ভুয়া পুলিশের বাড়ির মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং প্রজেক্ট ও মুরগির খামারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাঁচ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১০ জানুয়ারি উপজেলার মনিনগর গ্রামে নিহত মিজানের শ্বশুর ও শ্যালকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় মিজানকে ক্ষোভের শিকার হতে হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় কাজ আছে বলে দুজন ব্যক্তি তাকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত পৌনে ১০টার দিকে বিএনপি নেতা মাসুদ নিহতের ভগ্নিপতি আবু তাহেরকে হুমকি দিয়ে বলেন, তোমার ভায়রা মিজানকে প্রতিবাদ করতে নিষেধ কর, না হলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলব। এসময় কালিরহাট বাজারে মিজান তার মাছের প্রজেক্টের স্ট্যাম্প ও পাওনা ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরত চাইলে মাসুদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আলম, যুবদল নেতা হাফিজ উদ্দিন (৩২), অন্তর, কাশেম, জোবায়েদ, মো. আসিফ ও মিরণসহ ১৫–২০ জন মিজানের মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর হামলাকারীরা লাশ সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে বাজারে মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ওরফে মাসুদর রহমান বলেন, “আমি এ ঘটনার সাথে জড়িত নই। গণপিটুনিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সময় আমি আমার দোকানে ছিলাম।’
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, নিহতের স্ত্রী সিমা বাদী হয়ে সোমবার কবিরহাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সন্দেহভাজন ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরো ১৫–২০ জনকে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



