হোসেনপুরে পারস্য নির্মাণ শৈলীর দৃষ্টিনন্দন সাত গম্বুজ মসজিদ

২০১৭ সালে শুরু হওয়া মসজিদটির নির্মাণের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ কাজ এখন পর্যন্ত শেষ হয়েছে। এ মসজিদে রয়েছে সাতটি গম্বুজ। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট এবং প্রস্থ ৭৪ ফুট। সাতটি গুম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি নির্মাণের সময় ইট, বালু ও সিমেন্টের পাশাপাশি চিনামাটি, টাইলস ও মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)

Location :

Kishoreganj
দৃষ্টিনন্দন সাত গম্বুজ মসজিদ
দৃষ্টিনন্দন সাত গম্বুজ মসজিদ |নয়া দিগন্ত

ঐতিহাসিক মোগল, তুর্কী ও পারস্য রীতির সংমিশ্রণে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে স্থাপিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন সাত গম্বুজ মসজিদ। হোসেনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পুমদী ইউনিয়নের জগদল গ্রামে অবস্থিত ‘বিসমিল্লাহ সাত গম্বুজ মসজিদটি’ স্থানীয়ভাবে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় হোসেনপুর- জগদল-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত স্বতন্ত্র নির্মাণ শৈলী ও নান্দনিকতার সৌন্দর্যমন্ডিত এ মসজিদে বর্তমানে নামাজ আদায় করার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া মসজিদটির নির্মাণের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ কাজ এখন পর্যন্ত শেষ হয়েছে। এ মসজিদে রয়েছে সাতটি গম্বুজ। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট এবং প্রস্থ ৭৪ ফুট। সাতটি গুম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি নির্মাণের সময় ইট, বালু ও সিমেন্টের পাশাপাশি চিনামাটি, টাইলস ও মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে রং বেরঙের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক আলোক বাতি।

নবনির্মিত এ সাত গম্বুজ মসজিদে একসাথে শত শত মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। পাশাপাশি মহিলাদের জন্যও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। মসজিদের গায়ে লেখা রয়েছে পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা, বিভিন্ন দোয়া ও কালেমা। মসজিদটির কারুকাজ করা হয়েছে মোগল, তুর্কী ও পারস্য রীতির সংমিশ্রণে। মসজিদটি নির্মাণ করতে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও তার ভাইয়েরাসহ অনেকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িতে ঘুরতে আসলে পর্যটকরা দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি দেখার জন্য ছুটে আসেন জগদল গ্রামে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এটি নির্মাণে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী গম্বুজ ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাণ শৈলীতেও রয়েছে মুনশিয়ানার ছাপ। নির্মাণা শৈলীর দিক থেকে এ মসজিদটি বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি মসজিদের মধ্যে অন্যতম এটি। মসজিদের চারপাশে বড় আকারের একাধিক জানালা থাকায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। এতে ভেতরে সারাক্ষণ শীতলভাব বজায় থাকে। এজন্য প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন।

শুক্রবার সকাল থেকে মসজিদ প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে। সন্ধ্যার পর মসজিদে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এসময় সদর উপজেলা থেকে মসজিদটি দেখতে আসা উপজেলার জামাইল গ্রামের ব্যবসায়ী মো: নবী হোসেন, মো: মহসীন সিরাজীসহ অনেকেই জানায়, এ রকম সুন্দর মসজিদ আমরা গ্রামগঞ্জে কখনও দেখিনি। এখানে নামাজ পড়ে মনে অনেক প্রশান্তি পেয়েছি। এখান থেকে ঘরে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে না।

মো: আমিনুল ইসলাম নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি দেখে ফেরার সময় হঠাৎ মসজিদটি দেখে চোখ আটকে যায়। পরে ভেতরে গিয়ে মসজিদ পুরোটা দেখে এসে মনে অনেক শান্তি পেলাম।’

স্থানীয় বাসিন্দা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো: শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া হিমেল ও ব্যবসায়ী মো: শামীম মিয়া জানান, আমাদের এলাকার দানবীর আব্দস সালাম সাহেব এতো চমৎকার একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেবেন এমনটা কখনো ভাবিনি। এমন চমৎকার নির্মাণ শৈলীর মসজিদ পেয়ে আমরা গর্বিত।

এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিএস মো: আবুল হাসিম সবুজ জানান, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দৃষ্টিনন্দন ভাবে তৈরি করা হয়েছে ওই সাত গম্বুজ মসজিদটি। সহায়তা নেয়া হয়েছে দেশী-বিদেশি প্রযুক্তিবিদদের। তাই এখানে মসজিদটি দেখতে ও নামাজ পড়তে প্রতিদিন শতশত ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভিড় করছেন। এ মসজিদটির কারণে এলাকার পরিচিতিও বেড়ে গেছে অনেক বেশি।’