মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল

সরকার সংসদে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে রাজপথেই সমাধান হবে

‘বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে ৫১ শতাংশ জনগণের রায়কেও আমরা বৈধ বলতে পারি না।’

চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরের আমির মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল বলেছেন, ‘আমরা ৭০ শতাংশ জনগণের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে এসেছি। সংসদে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে রাজপথেই সমাধান হবে।’

তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে একই তফসিলে দু’টি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর বিএনপি একটি নির্বাচনকে বৈধ বলছে আরেকটি নির্বাচনকে অবৈধ বলছে! বিএনপির দ্বিচারিতা আচরণ জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।’

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেইটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল বলেন, ‘সরকারের যাত্রা দেখে মনে হয় সরকার ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করছে। বিএনপি জনগণের গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকার আমাদেরকে রাজপথে ঠেলে দিচ্ছে।‘ জনগণের মুখোমুখি না হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন দুর্বার গতিতে চালিয়ে যেতে হবে। বিএনপি সহজ ভাষা বুঝবে না। গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে বাধ্য করতে হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, ‘বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা গণভোটে জনগণের রায় মেনে নেবে। তারা ৫১ শতাংশ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায়কে মেনে নিচ্ছে না। বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে ৫১ শতাংশ জনগণের রায়কেও আমরা বৈধ বলতে পারি না।’

বিএনপিকে বিগত ১৭ বছরের কথা স্মরণ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণ আপনাদের পক্ষে ছিল। কিন্তু আপনাদের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে আগামীতে জনগণকে পাশে পাবেন না। জনগণকে পাশে পেতে হলে গণবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিহার করে জনরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।’

১১ দলীয় ঐক্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, খেলাফত মজলিসের নগর সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শিহাব উদ্দিন, এনসিপির নগর যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ মঈনুদ্দিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, খেলাফত আন্দোলনের মহানগর সভাপতি মাওলানা আতিক বিন ওসমান, লিবারেল পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নগর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, লেবার পার্টির মহানগর সহ-সভাপতি মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শাসুজ্জামান হেলালী, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ শফিউল আলম, ডা: আবু নাছের প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দরা বলেন, শুধুমাত্র সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণভোটের রায় উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।