কিশোরগঞ্জের হাওরে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য মো: শরীফুল আলম।
তিনি বলেছেন, ‘ডাকাতি দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে। পুরনো রেকর্ডের ভিত্তিতে ডাকাতদের চিহ্নিত করে ধারাবাহিক অভিযান চালানো গেলে তারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হবে।’
রোববার (১২ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপদেষ্টা হিসেবে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শরীফুল আলম বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে ডাকাতদের তালিকা থাকার কথা। সেই তালিকা ধরে অভিযান চালানো হলে ডাকাতদের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী রেকর্ডের ভিত্তিতে তাদের ধরলে ডাকাতি তো দূরের কথা, কয়েক দিন টানা অভিযান চালালেই তারা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হবে। অন্যায়ের সাথে কোনোভাবেই আপস করা যাবে না।’
হাওরে পানি বাড়ার পর গত কয়েক দিনে করিমগঞ্জ, ইটনা ও মিঠামইনের বিভিন্ন নৌপথে একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ জুলাই রাতে করিমগঞ্জের সুতারপাড়া হাওরে লাশবাহী একটি নৌকায় হামলা চালিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে নেয় ডাকাতেরা। পরদিন ইটনার বাদলার হাওরে ব্যবসায়ীদের একটি নৌকা থামিয়ে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে তারা।
এসব ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নির্দেশে ইটনা থানার উদ্যোগে ডাকাতিপ্রবণ নৌপথে বিশেষ নৌ-টহল জোরদার করা হয়। একইসাথে জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় বিকেল সাড়ে ৫টার পর হাওরে নৌ চলাচল না করার নির্দেশ দেয়া হয়।
তবে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। শনিবার ঢাকা থেকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “বিকেল ৫টার পর নৌ-চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত ‘মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলার’ মতো।”
তিনি বলেন, ‘হাওরে মানুষের প্রয়োজনেই গভীর রাত পর্যন্ত নৌকা চলাচল করে। তাই এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।’
তিনি জানান, সংসদ অধিবেশন শেষ হলে আগামী ১৬ জুলাই এলাকায় গিয়ে ডাকাতদের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করবেন।
একইসাথে হাওরবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পলাতক অপশক্তিও এমন ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে সভায় কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো: মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: জালাল উদ্দিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



