নওগাঁর মান্দায় শারীরিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা শাহীন আলম (৩০) নামে মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৫।
র্যাবের সহায়তায় নোয়াখালী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মান্দা থানা পুলিশ। এ খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
তবে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও অন্যান্য তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
গ্রেফতার আসামি শাহীন মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চকমানিক গ্রামের মরহুম আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন না থাকায় অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চকরঘুনাথ বাজারে মামার বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত শেষে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণী। পথে দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পুকুর পাড় সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গলে শাহীন তাকে জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় ওই তরুণী কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে পারেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে বাড়িতে ফিরে ইশারা-ইঙ্গিত ও ভাঙা ভাঙা অস্পষ্ট কথায় মায়ের কাছে ঘটনার বিষয়টি জানান তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে বিষয়টি আরো ব্যাপক আকারে আলোচনায় চলে আসে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহীনকে গ্রেফতারে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছিল না।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ‘অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। অবশেষে র্যাব-৫-এর সহযোগিতায় নোয়াখালী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী কার্যক্রম জানানো হবে।



