নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে শুক্রবার (১ মে) রাতের ভারি বর্ষণে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম ও টয়লেটের দেয়াল ধসে পড়েছে। এমতাবস্থায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুঘর্টনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে কোমলমতি শিশুদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার ১ নম্বর উত্তর দুরাকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচটি ক্লাসের এতোগুলো শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য রয়েছে মাত্র তিনটি ক্লাসরুম। এর মধ্যে একটি রুমের এক পাশের দেয়াল ধসে পড়ায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার রাতের ভারী বর্ষণে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান ক্লাসরুমের একটি কর্নার ধসে পড়েছে। রুম সংলগ্ন টয়লেটটি পড়েছে হুমকিতে। যেকোনো সময় ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়ে যেতে পারে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছে।
স্থানীয়রা জানান, ভারী বর্ষণে ভবনের রুম ও টয়লেটের দেয়াল ধসে পড়েছে। এতে শিশুদের ক্লাস করা কষ্টকর হবে। আমরা আমাদের শিশুদের সুষ্ঠুভাবে পড়াশোনার জন্য ভবনটি দ্রুত সংস্কারের দাবি করছি।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা রেজাউল আলম স্বপন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির রুমটির একাংশ ও কোমলমতি শিশুদের ব্যবহৃত টয়লেটের একাংশ ধসে পড়েছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুঘর্টনা ঘটতে পারে। এ জন্য জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেছা খানম বলেন, ‘সকালে বিদ্যালয়ে এসে দেখতে পাই, রাতের ভারী ভর্ষণে ক্লাসরুমের এক পাশের দেয়াল ধসে পড়েছে। তাৎক্ষণিক বেঞ্চ, নলকুপ, ফ্যান ও বৈদ্যুতিক তার সড়িয়ে ফেলেছি। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস গ্রহণে ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে। দু’টি ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা করা খুবই কষ্টকর হবে। তবে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগতি করেছি।’
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ফিরোজ জানান, বিদ্যালয়টিতে মাত্র তিনটি ক্লাসরুম। পর্যাপ্ত ক্লাসরুম না থাকায় এমনিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কষ্ট হয়। এর মধ্যে শুক্রবারের ভারী বর্ষণে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসরুমের একাংশ ধসে পড়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটবে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।



