নারায়ণগঞ্জে বিএনপি কার্যালয় থেকে ৩ এমপি ও আহ্বায়কের ছবি অপসারণ

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির একটি কার্যালয় থেকে তিন সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়কের ছবি অপসারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে বিতর্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

কামাল উদ্দিন সুমন, নারায়ণগঞ্জ

Location :

Narayanganj
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি কার্যালয় থেকে ৩ এমপি ও আহ্বায়কের ছবি অপসারণ
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি কার্যালয় থেকে ৩ এমপি ও আহ্বায়কের ছবি অপসারণ |নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির একটি কার্যালয় থেকে তিন সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়কের ছবি অপসারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে বিতর্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদমজী মুনলাইট সিনেমা হল এলাকায় ৬ মাস আগে জেলা বিএনপির ওই কার্যালয় স্থাপন করা হয়। সম্প্রতি সেখানে টানানো তিন সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ছবি নামিয়ে ফেলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের অনুসারীরা। কার্যালয়টির প্রধান ফটকের নাম ফলকও পরিবর্তন করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির কার্যালয়ের নাম ফলক সরিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যর সিদ্ধিরগঞ্জ কার্যালয় লেখা নাম ফলক টানানো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কোনো নেতাকর্মী প্রকাশ্যে কথা না বললেও এটি নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী বলেন, এটি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় বানানো হয়েছিলো। সকল নেতাকর্মীরা এখানে আসবে। এটি কারো ব্যাক্তিগত কার্যালয় নয়। তবে চাইলে সংসদ সদস্য কার্যালয়টি ব্যাবহার করতে পারতেন। কিন্তু এভাবে জেলা বিএনপির কার্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে পুরো ব্যক্তিগত কার্যালয় বানানোটা ঠিক হয়নি।

এদিকে জানা যায়, জেলা বিএনপির এই কার্যালয়ে জাতীয় নির্বাচনের ১০ দিন আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি নিজে উপস্থিত হয়েছিলেন বর্তমান নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘জেলা বিএনপির কার্যালয় দলীয় সবার জন্য উন্মুক্ত। দলীয় যেকোনো ব্যক্তি কিংবা দল মনোনীত ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সেখানে বসতে পারেন। তবে এটি কারো ব্যক্তিগত কার্যালয় নয়।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি তা রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে তাদের অনুসারীদের দাবি, কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিয়ে তাদের নিজস্ব অবস্থান রয়েছে। ছবি অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা আসে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি অফিসটি মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।