দেশজুড়ে আলোচিত নরসিংদী জেলার মাধবদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হযরত আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের ছিলিমপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন করিম।
পুলিশ জানায়, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গৌরীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় নরসিংদী ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হযরত আলী মাধবদী এলাকায় ভ্যানচালক হিসেবে কাজ করতেন। গার্মেন্টসে চাকরির সূত্রে গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের দুই যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরেই আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে তিনি গৌরীপুরে আশ্রয় নেন।
গৌরীপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. জামাল উদ্দিন জানান, গ্রেফতার এড়াতে চতুর হযরত আলী প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের সোহাগী এলাকায় তার ব্যবহৃত সিমকার্ড ফেলে রেখে আসে। পরে ছিলিমপুরের সোহাগবাজার মোড়ে চা পান করার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মাধবদী উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দি এলাকার মাঝামাঝি একটি সরিষা খেত থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত কিশোরী পরিবারের সঙ্গে বিলপাড় এলাকায় বসবাস করত। তার বাবা স্থানীয় একটি টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে ওই কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে বাসায় ফেরার পথে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে পরিবার মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহমদুল্লাহর শরণাপন্ন হলেও তারা সুবিচার পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং তাদের এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
পরবর্তীতে সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাওয়ার পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয় তরুণ কিশোরীকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। সারারাত খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার সকালে সরিষা খেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়।
নিহতের বাবা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। বড় ভাই অভিযোগ করেন, মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছিল এবং পরে এলাকা ছাড়ার চাপ দেওয়া হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত নূরাসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর সাবেক ইউপি সদস্য আহমদুল্লাহকেও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে মেয়েটির সঙ্গে নূরার সম্পর্ক ছিল, যা পরিবার মেনে নেয়নি। বুধবার তাকে বাবার কাছ থেকে তুলে নেওয়ার পরদিন সকালে লাশ পাওয়া যায়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ##



